দক্ষিণ চীন সাগরে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই চীন ডেইলি-র বিতর্কিত একটি ভিডিও ঘিরে নতুন করে কূটনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে। ভিডিওটিতে ফিলিপিনোদের অবমাননাকরভাবে বানর হিসেবে চিত্রায়িত করার প্রতিবাদে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ম্যানিলা, যা দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান রাজনৈতিক টানাপোড়েনকে আরও উসকে দিয়েছে।
সংক্ষেপে যা জানা গেছে
- চীন ডেইলি-র একটি ভিডিওতে ফিলিপিনোদের অবমাননাকর ও বর্ণবাদী ভঙ্গিতে ‘বানর’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
- ম্যানিলা এই ভিডিওকে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য এবং উস্কানিমূলক হিসেবে আখ্যা দিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে।
- দক্ষিণ চীন সাগরে ভূ-খণ্ডের মালিকানা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা চরমে রয়েছে।
- ফিলিপাইনের পক্ষ থেকে এই ঘটনাকে বর্ণবাদী প্রচারণা হিসেবে চিহ্নিত করে এর তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
ফিলিপাইনের সরকার চীন ডেইলি-র একটি ভিডিও প্রচারের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। বিতর্কিত ওই ভিডিওটিতে ফিলিপিনোদের বানরের সাথে তুলনা করে দেখানো হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক শিষ্টাচার এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের পরিপন্থী বলে মনে করছেন দেশটির কর্মকর্তারা। ফিলিপাইনের অভিযোগ, দক্ষিণ চীন সাগরে তাদের সার্বভৌমত্বের দাবির বিপরীতে জনমত গঠন করতে বেইজিং এমন ঘৃণ্য প্রচারণায় লিপ্ত হয়েছে।
ফিলিপাইন কর্তৃপক্ষের মতে, এটি কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং সুপরিকল্পিতভাবে ফিলিপিনো জনগণের সম্মানহানি করার একটি প্রচেষ্টা। দেশটি থেকে এই ভিডিও অপসারণের দাবি জানানো হয়েছে এবং এই ধরণের বর্ণবাদী প্রচারণার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। যদিও বেইজিং এ বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো ক্ষমা প্রার্থনা করেনি, তবে এই ঘটনা দুই দেশের মধ্যকার ভঙ্গুর কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও তলানিতে নিয়ে গেছে।
বিশ্লেষণ
দক্ষিণ চীন সাগরে গত কয়েক মাস ধরে ফিলিপাইন এবং চীনের জাহাজগুলোর মধ্যে প্রায়ই মুখোমুখি সংঘাতের ঘটনা ঘটছে। এই পরিস্থিতিতে চীন ডেইলি-র মতো রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যমের এমন ভিডিও প্রকাশ কেবল ভুল বোঝাবুঝির কারণ নয়, বরং এটি একটি মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের অংশ। বর্ণবাদী আক্রমণ ব্যবহার করে ফিলিপিনোদের মানসিকভাবে চাপে রাখা এবং আন্তর্জাতিক মহলে তাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করাই এর প্রধান উদ্দেশ্য হতে পারে।
তবে এই কৌশল বুমেরাং হতে পারে। এমন বর্ণবাদী কর্মকাণ্ডের ফলে ফিলিপাইনের অভ্যন্তরীণ জনমনে চীনবিরোধী মনোভাব আরও তীব্রতর হবে, যা দেশটির বর্তমান প্রশাসনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কৌশলগত সামরিক জোটকে আরও শক্তিশালী করার অজুহাত তৈরি করে দেবে। দীর্ঘমেয়াদে এই ধরণের বিদ্বেষমূলক প্রচারণা দক্ষিণ চীন সাগরে শান্তি আলোচনার পথকে আরও রুদ্ধ করবে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেবে।
সূত্র: aljazeera.com