যুক্তরাষ্ট্রের অ্যালাবামা অঙ্গরাজ্যের হান্টসভিল শহরে অনুষ্ঠিত স্পেস অ্যান্ড মিসাইল ডিফেন্স সিম্পোজিয়ামে মার্কিন সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে চারটি গুরুত্বপূর্ণ সক্ষমতা ঘাটতি পূরণের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সেনাবাহিনীর পোর্টফোলিও অ্যাকুইজিশন এক্সিকিউটিভ ফায়ারস শপের ব্রিগ্রেডিয়ার জেনারেল রবার্ট মাইকেশ এই চ্যালেঞ্জগুলোর বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, বর্তমানে ৬২টি প্রকল্পের মাধ্যমে এই ঘাটতিগুলো নিরসনের কাজ চলছে।
চ্যালেঞ্জের মূল দিকগুলো
জেনারেল মাইকেশ চিহ্নিত চারটি প্রধান ক্ষেত্রের মধ্যে রয়েছে প্রপালশন ও এনার্জেটিকস, টার্গেটিং ও সিকার প্রযুক্তি, শিল্প ভিত্তি এবং অস্ত্রের প্রশস্ততা ও গভীরতা বা মজুত। প্রপালশন বা চালিকাশক্তি সম্পর্কে তিনি বলেন, মিসাইল খাতের মূল ভিত্তি হলো প্রপালশন, কিন্তু বর্তমানে উচ্চ খরচ, জটিল উৎপাদন প্রক্রিয়া এবং সম্পদের সীমাবদ্ধতা এই খাতে বড় বাধা হিসেবে দাঁড়িয়েছে।
টার্গেটিং বা লক্ষ্য নির্ধারণের বিষয়ে তিনি উল্লেখ করেন যে, ভবিষ্যতের যুদ্ধগুলো তীব্র ইলেকট্রো-ম্যাগনেটিক পরিবেশে হবে, যেখানে জিপিএস ও নেটওয়ার্ক ব্যবস্থাকে অকেজো করার চেষ্টা করা হবে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় এমন অস্ত্র প্রয়োজন যা প্রতিকূল পরিবেশেও কাজ করতে সক্ষম। তিনি একক তথ্যের উৎসের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে বিভিন্ন সেন্সর ও ডোমেইন থেকে তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে অস্ত্রকে আরও কার্যকর করার আহ্বান জানান।
শিল্প খাতের চ্যালেঞ্জ ও মজুত বৃদ্ধি
শিল্প খাতের বিষয়ে জেনারেল মাইকেশ প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলোকে এমন সমাধান প্রস্তাব করতে বলেছেন যা সরকারকে একক উৎসের ওপর আটকে না রাখে। তিনি উন্মুক্ত আর্কিটেকচার এবং একাধিক উৎসের ওপর ভিত্তি করে অস্ত্র তৈরির ওপর জোর দেন।
চতুর্থ বিষয়টি হলো অস্ত্রের মজুত বা গোলাবারুদের গভীরতা। বর্তমানে সামরিক কার্যক্রমে গোলাবারুদের মজুত নিয়ে উদ্বেগের প্রেক্ষিতে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মাইকেশ বলেন, সব লক্ষ্যবস্তুর জন্য সর্বোচ্চ দামি অস্ত্রের প্রয়োজন নেই। আধুনিক যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সাশ্রয়ী এবং উচ্চ সক্ষমতার অস্ত্রের একটি ভারসাম্যপূর্ণ মিশ্রণ তৈরি করা এখন সময়ের দাবি।
পরবর্তী পদক্ষেপ
আর্মি স্পেস অ্যান্ড মিসাইল ডিফেন্স কমান্ডের লিউটেন্যান্ট জেনারেল জন রাফার্টি জানান, তারা এখন সাশ্রয়ী মূল্যের ইন্টারসেপ্টর বা প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরির দিকে মনোনিবেশ করছেন। এর মাধ্যমে ড্রোন থেকে শুরু করে ক্রুজ মিসাইলের মতো হুমকিগুলো মোকাবিলা করা সম্ভব হবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, প্রতিরক্ষা শিল্প খাত এই প্রয়োজনীয়তা সঠিকভাবে বুঝতে পেরেছে এবং তারা সঠিক পথেই এগোচ্ছে।