ঢাকাWednesday , 19 August 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন ও বিচার
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. খেলা
  6. খেলাধুলা
  7. চাকরি
  8. জাতীয়
  9. ধর্মীয় সম্প্রীতি
  10. পরিবেশ ও কৃষি
  11. প্রযুক্তি
  12. বিনোদন
  13. বিশেষ প্রতিবেদন
  14. বিশ্ব
  15. ভিডিও
আজকের সর্বশেষ সব খবর

রেকর্ড গড়ার পথে এল নিনো: বিশ্বজুড়ে আবহাওয়া ও অর্থনীতিতে বড় প্রভাবের আশঙ্কা

International Desk
August 18, 2026 4:15 am
Link Copied!

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোসফোরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (NOAA) জানিয়েছে, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে এবার এল নিনোর তীব্রতা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে। মূলত নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে গেলে এল নিনো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। গবেষকরা বলছেন, মহাসাগরের জমাটবদ্ধ তাপ বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ার কারণে বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রা এবং ঘূর্ণিঝড়ের গতিপ্রকৃতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে।

এল নিনো কী এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ
সাধারণত প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্বাঞ্চলীয়-কেন্দ্রীয় ট্রপিক্যাল এলাকায় সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি থাকলে তাকে এল নিনো হিসেবে গণ্য করা হয়। এবার এই উষ্ণতা বৃদ্ধির গতি অত্যন্ত দ্রুত। এল নিনোর প্রভাবে ইন্দোনেশিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকায় খরার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। আবার আমেরিকার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে শীতকালীন বৃষ্টিপাত বাড়তে পারে। এর ফলে মৎস্য আহরণ থেকে শুরু করে শীতকালীন পর্যটন পর্যন্ত বিভিন্ন খাতে বড় প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সুপার এল নিনোর প্রভাব
বিজ্ঞানীদের মতে, যখন তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অন্তত ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি হয়, তাকে সুপার এল নিনো বলা হয়। ইতিহাসে ১৯৮২-৮৩, ১৯৯৭-৯৮, ২০১৫-১৬ এবং ২০২৩-২৪ সাল ছিল সুপার এল নিনোর বছর। অতীতে দেখা গেছে, সুপার এল নিনোর সময় কলোরাডো নদী অববাহিকায় রেকর্ড পরিমাণ তুষারপাত ও বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিয়েছিল। ১৯৯৭-৯৮ সালের এল নিনোর ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রায় ৫.৭ ট্রিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছিল।

ভবিষ্যৎ সতর্কতা ও পরিস্থিতি
NOAA-এর তথ্য অনুযায়ী, আসন্ন শরৎ ও শীতকালে এল নিনো অত্যন্ত শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা ৯০ শতাংশেরও বেশি। বার্কলে আর্থের মডেলিং অনুযায়ী, বর্তমান এল নিনোর তাপমাত্রা ২০১৫-১৬ সালের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। এবারের এল নিনো পরিস্থিতি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে বিকশিত হচ্ছে, যা বিশ্বজুড়ে খাদ্য নিরাপত্তা ও পানি ব্যবস্থাপনার জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গবেষকরা মনে করছেন, এল নিনোর সম্ভাব্য প্রভাবগুলো আগেভাগে আঁচ করতে পারলেই কেবল ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা সম্ভব।