বাংলাদেশের সরকারি খাতের পাঁচটি বড় ব্যাংক—সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী ও বেসিক ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণ ছয় মাসের ব্যবধানে ৬ হাজার ৩০৪ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছরের ডিসেম্বর শেষে এই ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৪৫ হাজার ৩৯ কোটি টাকা, যা চলতি বছরের জুন শেষে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫১ হাজার ৩৪৩ কোটি টাকায়। রাষ্ট্রায়ত্ত এই ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থার এই তথ্য সাধারণ মানুষের আমানতের নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
জনতা ব্যাংকের পরিস্থিতির সবচেয়ে বেশি অবনতি হয়েছে। ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ ডিসেম্বর মাসের ৭২ হাজার ৫৩৮ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৭৫ হাজার ৫৫৮ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৭২ শতাংশ অর্থ বা ৫২ হাজার ৪১৮ কোটি টাকা মাত্র ২০টি বড় ব্যবসায়ী গ্রুপের কাছে আটকে আছে। এছাড়া অগ্রণী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৩ হাজার ৫১৮ কোটি টাকা বেড়ে ৩২ হাজার ১৩৩ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। রূপালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ১৫৯ কোটি টাকা বেড়ে ১৯ হাজার ৭৯০ কোটি টাকা হয়েছে।
অন্যদিকে, সোনালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ কিছুটা কমে ১৫ হাজার ৭১০ কোটি টাকা এবং বেসিক ব্যাংকের ১০২ কোটি টাকা কমে ৮ হাজার ১৫২ কোটি টাকায় নেমেছে। তবে এই সামান্য হ্রাস ব্যাংকের সামগ্রিক সংকট দূর করতে পারছে না। সোনালী ব্যাংকের মোট ঋণের প্রায় ১৫ শতাংশ এবং বেসিক ব্যাংকের মোট ঋণের প্রায় ৭০ শতাংশই খেলাপি। জনতা, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতিও বিশাল অংকে দাঁড়িয়েছে।
ব্যাংকারদের মতে, প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার কারণে বড় অংকের ঋণ আদায় করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অনেক বড় ঋণগ্রহীতা রাজনৈতিক পালাবদলের পর আত্মগোপনে বা দেশের বাইরে চলে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি না হওয়ায় আর্থিক খাতের সুশাসন ও ঋণ আদায়ের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, শুধু নতুন ঋণ বিতরণ কমিয়ে খেলাপি ঋণ কমানো সম্ভব নয়। ব্যাংকের টাকা উদ্ধারে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ, জামানত বিক্রি এবং ঋণ বিতরণে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করা জরুরি। অন্যথায় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর এই স্থবিরতা সাধারণ মানুষের আমানত এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।