যুক্তরাজ্যের লন্ডনে বসবাসরত বাংলাদেশি সৈয়দ জহুরুল হক ৬০ বছর বয়সে এসে নতুন করে স্নাতক (গ্র্যাজুয়েশন) ডিগ্রি অর্জন করেছেন। দীর্ঘ কর্মজীবন ও পারিবারিক দায়িত্বের পাশাপাশি অদম্য আগ্রহ ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে তিনি এই সাফল্য পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন। বয়সের সীমাবদ্ধতাকে জয় করে শিক্ষাজীবন শেষ করার এই দৃষ্টান্তটি অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পারিবারিক ও শিক্ষাগত পটভূমি
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামে ১৯৬৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন জহুরুল হক। তিনি আধ্যাত্মিক সাধক পীর সৈয়দ শাহনূর (রহ.)-এর বংশধর এবং একজন শিক্ষকের সন্তান হওয়ায় ছোটবেলা থেকেই শিক্ষার পরিবেশে বেড়ে ওঠেন। তিনি দেশের মাটিতে সৈয়দপুর পাইলট উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং সিলেটের এমসি কলেজ থেকে এইচএসসি ও বিএসসি সম্পন্ন করেছিলেন। পরবর্তীতে সিলেট ল কলেজে আইন বিষয়ে পড়াশোনা শুরু করলেও যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমানোর কারণে তা অসম্পূর্ণ থেকে যায়।
যুক্তরাজ্যে জীবনসংগ্রাম ও পেশা
১৯৯৩ সালে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমানোর পর নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে জীবন শুরু করেন জহুরুল হক। শুরুতে রেস্তোরাঁয় কাজ করলেও সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত হন এবং পরবর্তীতে দোভাষী হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলেন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাজ্যের আদালত, হাসপাতালসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সার্টিফায়েড ট্রান্সলেটর হিসেবে কাজ করছেন।
স্নাতক অর্জনের পথে
কর্মব্যস্ত জীবনের ফাঁকেও নিজের পুরোনো স্বপ্ন পূরণের ইচ্ছা দমে যায়নি তাঁর। চার বছর আগে তিনি নতুন করে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। সম্প্রতি কেন্টারবেরি ক্রাইস্ট চার্চ ইউনিভার্সিটি থেকে ‘বিজনেস অ্যান্ড ট্যুরিজম’ বিষয়ের ওপর তিনি স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। জহুরুল হক জানান, শিক্ষা মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ এবং শেখার কোনো শেষ নেই। চার কন্যা ও এক পুত্রের জনক জহুরুল হকের সন্তানরাও উচ্চশিক্ষিত এবং স্ব-স্ব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত।