যুক্তরাজ্যের বাজারে সহজলভ্য উদ্ভিদজাত মাংসের বিকল্প ও পানীয় নিয়ে চালানো গবেষণায় প্রতিটিতেই ছত্রাকজাত বিষ বা মাইকোটক্সিনের উপস্থিতি নিশ্চিত করেছেন বিজ্ঞানীরা। ক্র্যানফিল্ড ইউনিভার্সিটি এবং ইতালির ইউনিভার্সিটি অফ পার্মার যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এই গবেষণায় ২১২টি ভিন্ন পণ্য পরীক্ষা করা হয়েছে।
গবেষকরা বার্গার, ভেগান সসেজ, উদ্ভিদজাত চিকেন পিস এবং ওট, আমন্ড ও সয়াবিনের দুধসহ বিভিন্ন খাবার ও পানীয় বিশ্লেষণ করেছেন। পরীক্ষায় দেখা গেছে, প্রতিটি পণ্যে অন্তত একটি বা একাধিক ধরনের মাইকোটক্সিন রয়েছে। মূলত শস্য, ডাল ও বীজ জাতীয় উপাদানে চাষাবাদ বা সংরক্ষণের সময় ছত্রাকের সংক্রমণ থেকে এই বিষাক্ত উপাদানগুলো তৈরি হয়।
যদিও গবেষণায় পাওয়া মাইকোটক্সিনের মাত্রা ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্ধারিত নিরাপত্তা সীমার নিচেই রয়েছে, তবুও বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, নিয়মিত এসব খাবার গ্রহণের ফলে শরীরে বিষের মাত্রা সঞ্চিত হতে পারে, যা ভবিষ্যতে যকৃৎ বা কিডনির ক্ষতিসহ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে।
ক্র্যানফিল্ড ইউনিভার্সিটির মাইকোলজি বিভাগের সিনিয়র লেকচারার আন্দ্রেয়া প্যাট্রিয়ার্কা জানিয়েছেন, প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত খাদ্যে মাইকোটক্সিন সম্পূর্ণ এড়ানো অসম্ভব। তবে নতুন ধরনের খাদ্য বাজারে আসার ক্ষেত্রে এর সঠিক মনিটরিং ও নিয়ন্ত্রণের অভাব রয়েছে। বর্তমানে গবেষকরা বিভিন্ন খাদ্য প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের সাথে কাজ করছেন যাতে খাদ্য নিরাপত্তার মানদণ্ডে এই ঝুঁকিগুলো সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা যায়।
খাদ্য ও পানীয়ের ঝুঁকি নিরূপণে এই গবেষণার ফলাফল নীতিনির্ধারকদের সহায়তা করবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। গবেষণাপত্রটি ‘ফুড কন্ট্রোল’ সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।