যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের ফ্লোরিডা আটলান্টিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত আল্ট্রা-প্রসেসড বা অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার গ্রহণ প্রস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে দিতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের চার্লস ই. শ্মিড কলেজ অব মেডিসিনের গবেষকরা এই তথ্য জানিয়েছেন। প্রস্টেট ক্যান্সার পুরুষদের মধ্যে অন্যতম প্রধান স্বাস্থ্যঝুঁকি হওয়ায় এই ফলাফল জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
গবেষণাটি দ্য আমেরিকান জার্নাল অব মেডিসিন-এ প্রকাশিত হয়েছে। এতে ২০০৩ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ১৭ হাজার ২৪ জন মার্কিন পুরুষের খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যগত তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা কোমল পানীয়, প্যাকেটজাত সিরিয়াল, স্ন্যাকস এবং প্রক্রিয়াজাত মাংসের মতো আল্ট্রা-প্রসেসড খাবার বেশি গ্রহণ করেন, তাদের প্রস্টেট ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্য হারে বেশি। বয়স, জাতিসত্তা, ধূমপান এবং আর্থিক অবস্থার মতো বিষয়গুলো সমন্বয় করার পরও এই ঝুঁকি ২৪ থেকে ৩১ শতাংশের মধ্যে পাওয়া গেছে।
গবেষণার প্রধান লেখক এবং প্রোভেন্টিভ মেডিসিনের অধ্যাপক চার্লস এইচ. হেনেকেনস বলেন, প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের মধ্যে যারা আল্ট্রা-প্রসেসড খাবার বেশি খান, তাদের প্রস্টেট ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি গবেষণায় স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। এই ধরনের খাবার বিপাক প্রক্রিয়া ব্যাহত করা, শরীরে প্রদাহ বাড়ানো এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেস তৈরির মাধ্যমে ক্যান্সারের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে ধারণা করছেন বিজ্ঞানীরা।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রাপ্তবয়স্কদের দৈনিক ক্যালরির প্রায় ৬০ শতাংশ এবং শিশুদের ৭০ শতাংশই আসে এই আল্ট্রা-প্রসেসড খাবার থেকে। গবেষক দলের সদস্য অধ্যাপক টিমোথি ডি ভার ডাই বলেন, অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারের সহজলভ্যতা জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সাধারণ মানুষের জন্য পুষ্টিকর ও কম প্রক্রিয়াজাত খাবার সহজলভ্য করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।
বিশ্বব্যাপী প্রস্টেট ক্যান্সারের প্রকোপ প্রতিনিয়ত বাড়ছে। ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যান্সারের তথ্যমতে, ২০২২ সালে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৫ লাখ পুরুষ প্রস্টেট ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছেন এবং প্রায় ৪ লাখ মানুষ এই রোগে মারা গেছেন। এমতাবস্থায়, সুস্থ থাকতে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।