যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে ডব্লিউএনবিএ লিগের বাস্কেটবল দল ‘শিকাগো স্কাই’ তাদের খেলোয়াড়দের সুরক্ষায় জাতীয় নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দলের সহ-মালিক নাদিয়া রলিংসন জানিয়েছেন, খেলোয়াড়রা অনলাইনে যে ধরনের ভয়ংকর ও ঘৃণ্য আচরণের শিকার হচ্ছেন, তা থেকে মুক্তি দিতেই এই বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। খেলাধুলা ও ব্যক্তিগত পরিচয়ের ওপর ভিত্তি করে খেলোয়াড়দের ওপর আক্রমণ বাড়তে থাকায় এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
শিকাগো স্কাই প্রথম ডব্লিউএনবিএ ফ্র্যাঞ্চাইজি হিসেবে আমেরিকান ইউনিভার্সিটির ‘পোলারাইজেশন অ্যান্ড এক্সট্রিমিজম রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন ল্যাব’ (PERIL) এবং হুমকি শনাক্তকারী প্রতিষ্ঠান ‘মুনশট’-এর সাথে যুক্ত হয়েছে। মুনশট মূলত সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় ব্যবহৃত প্রযুক্তি ব্যবহার করে খেলোয়াড়দের ওপর আসা অনলাইন হুমকি পর্যবেক্ষণ করবে। অন্যদিকে, PERIL নারীবিদ্বেষ এবং উগ্রপন্থা প্রতিরোধের জন্য শিক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নারী বাস্কেটবলের জনপ্রিয়তা বাড়ার সাথে সাথে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নারী খেলোয়াড়দের ওপর হয়রানি ও হুমকির হার উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বিশেষ করে কৃষ্ণাঙ্গ নারী খেলোয়াড়রা বর্ণবাদী ও যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছেন বেশি। পর্যবেক্ষকদের মতে, এই হয়রানির পেছনে নারীবিদ্বেষ একটি বড় কারণ হিসেবে কাজ করছে, যা সামাজিক বিভাজন ও সহিংসতাকে উসকে দিচ্ছে।
নাদিয়া রলিংসন জানান, একজন নারী উদ্যোক্তা হিসেবে তিনি খেলোয়াড়দের এই কঠিন বাস্তবতাকে ব্যক্তিগতভাবে অনুভব করতে পারেন। দলটির লক্ষ্য হলো, খেলোয়াড়রা যেন মাঠের খেলায় পূর্ণ মনোযোগ দিতে পারেন এবং বাইরের কোনো অপশক্তি বা বিদ্বেষপূর্ণ পরিবেশ তাদের ক্যারিয়ার বাধাগ্রস্ত না করে।
মুনশটের তথ্য অনুযায়ী, নারী ক্রীড়াবিদদের বিরুদ্ধে আসা হুমকির ধরন পুরুষ খেলোয়াড়দের চেয়ে আলাদা। পুরুষদের ক্ষেত্রে হুমকি মূলত পারফরম্যান্স কেন্দ্রিক হলেও, নারীদের ক্ষেত্রে তা হয় তাদের ব্যক্তিগত পরিচয়, লিঙ্গ ও যৌনতা নিয়ে। এই সংকট মোকাবিলায় ‘বি দ্য সিক্সথ প্লেয়ার’ নামে একটি ক্যাম্পেইনও শুরু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে দর্শকদের কোনো ধরনের বিদ্বেষপূর্ণ মন্তব্য বা উগ্র আচরণের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে উৎসাহিত করা হবে।