যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে ইরানবিরোধী চলমান লড়াইয়ে বিপুল সংখ্যক এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন হারিয়েছে মার্কিন বিমানবাহিনী, যা তাদের জন্য চরম উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পেন্টাগনের আধুনিকায়ন বিষয়ক প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ক্রিস্টোফার নিয়েমি জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় রিপার ড্রোনের বিকল্প দ্রুত তৈরির প্রচেষ্টা জোরদার করা হয়েছে।
ইরানের সাথে চলমান অপারেশন এপিক ফিউরিতে এ পর্যন্ত অন্তত ৪৫টি রিপার ড্রোন হারিয়েছে মার্কিন বাহিনী, যা পেন্টাগনের মোট মজুদের প্রায় এক-চতুর্থাংশ। এমকিউ-৯ রিপারের উৎপাদন গত বছর বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নতুন ড্রোনের প্রয়োজনীয়তা আরও তীব্র হয়েছে।
নতুন ড্রোন কর্মসূচি ও লক্ষ্যমাত্রা
গত জুলাই মাসে পেন্টাগন ‘ম্যাস মডুলার এয়ারক্রাফট’ (MMA) নামের একটি নতুন কর্মসূচি শুরু করেছে। এই ড্রোনের প্রতিটি ইউনিটের দাম প্রায় ১০ মিলিয়ন ডলার রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ডিফেন্স ইনোভেশন ইউনিট (DIU) জানিয়েছে, ২০৩১ অর্থবছরের মধ্যে অন্তত ২০টি মিশন-প্রস্তুত ড্রোন পাওয়ার লক্ষ্য থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা এই প্রক্রিয়া আরও দ্রুত করার নির্দেশনা পেয়েছে। মেজর জেনারেল জোসেফ কুনকেল জানিয়েছেন, আগামী এক বছরের মধ্যে প্রোটোটাইপ তৈরি এবং তিন বছরের মধ্যে বড় পরিসরে মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে।
কৌশলগত পরিবর্তন
লেফটেন্যান্ট জেনারেল নিয়েমি জানান, তারা অন্তত ১৮০টি এমএমএ ড্রোন মোতায়েন করতে চান। রিপার ড্রোনের তুলনায় এই ড্রোনগুলো কিছুটা কম প্রযুক্তিনির্ভর হবে যাতে খরচ কমানো সম্ভব হয়। এটি দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে সক্ষম হবে এবং এতে ভারী বোঝা বহনের ক্ষমতা থাকবে। একইসাথে, একজন অপারেটর যেন মাউস ও কিবোর্ডের সাহায্যে একাধিক ড্রোন নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন, সেই পর্যায়ের অটোমেশন যুক্ত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
প্রতিযোগিতা ও শিল্পখাত
জেনারেল অ্যাটমিক্সসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে। কোম্পানিটি ‘ওয়াইল্ডফায়ার’ নামে নতুন এক ডিজাইনের প্রস্তাব দিয়েছে, যা রিপারের কার্যকারিতা বজায় রেখেই সাশ্রয়ী মূল্যে সরবরাহ করা সম্ভব বলে তারা দাবি করেছে। তবে পেন্টাগন কোনো একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর না করে একাধিক কোম্পানির মধ্যে প্রতিযোগিতা বজায় রাখতে আগ্রহী।