যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রেডিকশন মার্কেট প্ল্যাটফর্মে বাজি ধরার ক্ষেত্রে অনিয়ম ও কারসাজির দায়ে ব্যবহারকারীদের নিষিদ্ধ এবং গ্রেপ্তারের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। ওয়্যার্ডের সাম্প্রতিক পডকাস্টে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, প্ল্যাটফর্মগুলোতে বাজি ধরার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার অভাব এবং অস্পষ্ট নিয়মনীতির কারণে এমন ঘটনা ঘটছে।
প্রাক্তন মার্কিন প্রতিনিধি জর্জ সান্তোসকে এর একটি বড় উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি প্রেডিকশন মার্কেট প্ল্যাটফর্ম ‘কালশি’ (Kalshi)-তে বাজি ধরে নিজের সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। এর দায়ে তাকে প্ল্যাটফর্মটি থেকে আজীবন নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং ৭১ হাজার ডলার জরিমানা করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ট্রাম্পের ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ ভাষণে তার উপস্থিত থাকা না থাকা নিয়ে নিজের বাজিকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছিলেন।
অন্যদিকে, পলিওমার্কেট (Polymarket) প্ল্যাটফর্মে ইনসাইডার ট্রেডিংয়ের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষ একজন গুগল প্রকৌশলীকে গ্রেপ্তার করেছে। ওই প্রকৌশলী তার কাজের সুবাদে পাওয়া গোপন তথ্য ব্যবহার করে প্ল্যাটফর্মে বাজি ধরে ১০ লাখ ডলারেরও বেশি আয় করেছিলেন। তিনি অবশ্য নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলছেন যে, এটি কোনো ট্রেডিং নয়, বরং নিছক বাজি ধরা ছিল।
প্রেডিকশন মার্কেট নিয়ে বর্তমানে যে আইনি ধূসর এলাকা তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা উদ্বিগ্ন। ফেডারেল নিয়ন্ত্রিত প্ল্যাটফর্ম হওয়ায় কালশির মতো প্রতিষ্ঠানগুলো আইন অনুযায়ী জরিমানা করার ক্ষমতা রাখে। জর্জ সান্তোস ও গুগলের প্রকৌশলীর ঘটনাগুলো প্রমাণ করে যে, এই নতুন ধরনের বাজারে নজরদারি ও নিয়মনীতি প্রয়োগে কর্তৃপক্ষ এখন কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে।