মধ্যপ্রাচ্যে হরমুজ প্রণালীর পাশাপাশি লোহিত সাগরে বিকল্প নৌপথে তেলবাহী জাহাজের ওপর হামলার হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় তা চরম সংকটের মুখে পড়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা। জাহাজ ট্র্যাকিং সংস্থা কেপলারের বিশ্লেষক ম্যাথিউ রাইট জানিয়েছেন, যুদ্ধের শুরু থেকে অপরিশোধিত তেল বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বর্তমানে সবচেয়ে খারাপ সময় পার করছে বিশ্ব।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে যুদ্ধের আগে দৈনিক ১০০টির বেশি জাহাজ চলাচল করলেও বর্তমানে তা মাত্র ৮ থেকে ১১টিতে নেমে এসেছে। এর আগে ইরান কর্তৃক হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার পর অনেক ট্যাংকার লোহিত সাগর হয়ে বিকল্প পথে যাত্রা শুরু করেছিল। কিন্তু ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরে সৌদি আরবের ট্যাংকার লক্ষ্য করে নতুন করে হামলা শুরু করায় সেই পথও এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ইন্টারট্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক টিম উইলকিন্স জানিয়েছেন, জাহাজ মালিকরা এখন এক জটিল ও অবনতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। হুতিদের পক্ষ থেকে গত ২০ জুলাই সৌদি আরবের লোহিত সাগরের বন্দরগুলোতে অবরোধের ঘোষণা দেওয়া হয় এবং গত এক সপ্তাহে বেশ কয়েকটি জাহাজে হামলার খবর পাওয়া গেছে।
জাহাজ চলাচলের তথ্য অনুযায়ী, লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দেব প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের সংখ্যাও অর্ধেকে নেমে এসেছে। এছাড়া অনেক জাহাজ শনাক্তকরণ এড়াতে তাদের ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রেখে চলাচল করছে। হাইপাগ-লয়েডসহ বেশ কিছু বড় শিপিং কোম্পানি জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, ওমানের সঙ্গে আলোচনা চললেও মার্কিন ‘আগ্রাসন’ অব্যাহত থাকায় আপাতত কোনো চূড়ান্ত চুক্তির সম্ভাবনা নেই। এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর পরিকল্পিত হামলা বাতিলের ইঙ্গিত দেওয়ার পর অপরিশোধিত তেলের দাম কিছুটা কমেছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের কারণে শিপিং খাত এখন পুনরায় শুরুর আগের অবস্থায় ফিরে গেছে এবং শিগগির স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসার সম্ভাবনা খুবই কম।