যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অবস্থিত রকফেলার ইউনিভার্সিটির গবেষকরা জানিয়েছেন, আর্জিনিন নামক একটি সাধারণ অ্যামিনো অ্যাসিড মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে ক্যান্সার কোষ ও ভাইরাস শনাক্ত করতে সাহায্য করে। গবেষণায় দেখা গেছে, শরীরে আর্জিনিনের মাত্রা কমে গেলে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে, যা ক্যান্সার ও বিভিন্ন সংক্রামক ব্যাধির ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
গবেষক দলের প্রধান সোহাইল তাভাজোয়ে জানান, আর্জিনিন সমৃদ্ধ খাবার বা পরিপূরক গ্রহণ করলে তা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ক্যান্সার এবং ভাইরাল সংক্রমণের চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ
আমাদের শরীরে প্রোটিন তৈরিতে আর্জিনিন অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে। গবেষণায় দেখা গেছে, যখন শরীরে আর্জিনিনের অভাব দেখা দেয়, তখন কোষগুলো এমএইচসি-১ (MHC-1) নামক প্রোটিন তৈরি করতে ব্যর্থ হয়। এই প্রোটিনটি মূলত শরীরের ভেতরকার বিপদজনক কোষ বা ভাইরাসের উপস্থিতি সম্পর্কে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সতর্ক করে। আর্জিনিনের অভাবে এই সতর্কবার্তা ব্যাহত হয়, ফলে ক্যান্সার কোষ সহজেই শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার নজর এড়িয়ে বংশবৃদ্ধি করতে পারে।
ইঁদুরের ওপর চালানো পরীক্ষায় দেখা গেছে, যেসব ইঁদুরকে আর্জিনিন সমৃদ্ধ খাবার দেওয়া হয়েছে, তাদের কোলন ক্যান্সারের টিউমার তৈরির হার কম ছিল। এমনকি ইনফ্লুয়েঞ্জা এবং সার্স-কোভ-২ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পরও আর্জিনিন গ্রহণ করা ইঁদুরের ক্ষেত্রে সংক্রমণের লক্ষণ অনেক মৃদু ছিল।
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
গবেষক কিউশুয়াং উ-এর মতে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরে প্রাকৃতিকভাবে আর্জিনিনের মাত্রা কমতে থাকে, যা বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতা ও সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য হওয়ায় আর্জিনিন সাপ্লিমেন্ট উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা রোগীদের ক্ষেত্রে বা প্রচলিত চিকিৎসার সহায়ক হিসেবে ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করছেন বিজ্ঞানীরা। তবে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল প্রয়োজন বলে মত দিয়েছেন গবেষকরা।