যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসে অবস্থিত হার্ভার্ড জন এ. পলসন স্কুল অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অ্যাপ্লায়েড সায়েন্সেসের (SEAS) গবেষকরা সাধারণ বুনন শিল্পকে কাজে লাগিয়ে তৈরি করেছেন নতুন প্রজন্মের স্মার্ট কাপড়। গবেষণার নেতৃত্ব দিয়েছেন কৌসাল্য মহাদেবন। বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবিত এই প্রযুক্তিটি সাধারণ কাপড়কে বিভিন্ন আকৃতি ধারণ করতে, নড়াচড়া শনাক্ত করতে এবং ইলেকট্রনিক যন্ত্র নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম করে তুলেছে।
গবেষক দলটি নমনীয় সুতা এবং প্রচলিত শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত বুনন পদ্ধতি ব্যবহার করে এমন ঘন টেক্সটাইল তৈরি করেছেন, যা স্বাভাবিকভাবেই নির্দিষ্ট আকৃতিতে বেঁকে যেতে পারে। এই কাপড়গুলো একবার নির্দিষ্ট আকৃতি ধারণ করলে তা সেখানে আটকে থাকে, যা অনেকটা লাইট সুইচের অন-অফ হওয়ার মতো কাজ করে।
গবেষণায় দেখা গেছে, কাপড়টি যখন এক আকৃতি থেকে অন্য আকৃতিতে পরিবর্তিত হয়, তখন এর ভেতরের সুতাগুলো ইলেকট্রনিক সুইচ হিসেবে কাজ করে। এর সঙ্গে বিদ্যুৎ পরিবাহী সুতা যুক্ত করে গবেষকরা প্রমাণ করেছেন যে, এটি দিয়ে লাইটের রং পরিবর্তন বা স্টেপ কাউন্টার হিসেবে কাজ করা সম্ভব। হাঁটুর ওপর এই কাপড় স্থাপন করলে তা নড়াচড়া শনাক্ত করতে পারে।
এই প্রযুক্তির অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হলো, এটি তৈরি করতে কারখানায় বিদ্যমান প্রচলিত বুনন যন্ত্রই ব্যবহার করা সম্ভব। ফলে ভবিষ্যতে বড় পরিসরে এই স্মার্ট কাপড় উৎপাদন করা সহজ হবে। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে এমন পোশাক তৈরি করা সম্ভব হবে যা শরীরের নড়াচড়া পর্যবেক্ষণ করবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নিজের আকৃতি পরিবর্তন করতে পারবে। এই গবেষণার ফলাফল ‘অ্যাডভান্সড ফাংশনাল মেটেরিয়ালস’ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।