যুক্তরাজ্যে তীব্র দাবদাহ ও অনাবৃষ্টির কারণে সবজির আকার ছোট হয়ে যাওয়া এবং দাম বৃদ্ধির আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন দেশটির কৃষকরা। ন্যাশনালওয়াইড প্রডিউস-এর চেয়ারম্যান টিম ও’ম্যালি জানিয়েছেন, এবারের পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ এবং সুপারমার্কেটগুলোতে ক্রেতাদের পণ্যের জন্য বাড়তি মূল্য গুণতে হতে পারে অথবা ছোট আকারের সবজি কিনতে হতে পারে।
আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৯০ বছরের মধ্যে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে এবারই জুলাই মাসে সবচেয়ে কম বৃষ্টিপাত হয়েছে। দেশটির বড় একটি অংশে খরা ঘোষণা করা হয়েছে। এনার্জি অ্যান্ড ক্লাইমেট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (ইসিআইইউ) জানিয়েছে, শস্য ও তৈলবীজের উৎপাদন পূর্বের পূর্বাভাসের চেয়ে প্রায় ২৫ লাখ টন কম হতে পারে।
১৯৮৪ সালের পর এবারই শস্যের ফলন সর্বনিম্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। খরা ও অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে ফসলের গুণমান ব্যাহত হওয়ায় উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। পরিস্থিতির চাপে সুপারমার্কেটগুলো বাইরের দেশ থেকে পণ্য আমদানি বাড়াতে বাধ্য হচ্ছে, যা ভোক্তা পর্যায়ে দামের ওপর প্রভাব ফেলছে।
কেমব্রিজশায়ারের কৃষক ও নেচার ফ্রেন্ডলি ফার্মিং নেটওয়ার্কের প্রধান মার্টিন লাইনস জানান, পরপর তিন বছর এমন বাজে ফসলের মৌসুমে কৃষকরা চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দেশটিতে ঘন ঘন দাবদাহ ও পানির সংকট কৃষিখাতের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।