যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাপালাচিয়া অঞ্চলের কয়লা খনি শ্রমিকদের মধ্যে প্রাণঘাতী ‘ব্ল্যাক লাং’ বা ফুসফুসের জটিল রোগের প্রকোপ গত অর্ধশত বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর অকুপেশনাল সেফটি অ্যান্ড হেলথ (এনআইওএসএইচ)-এর প্রকাশিত নতুন গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে। এই পরিস্থিতিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে অভিহিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, কেন্টাকি, ভার্জিনিয়া এবং ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার যেসব খনি শ্রমিক অন্তত ২৫ বছর মাটির নিচে কাজ করেছেন, তাদের মধ্যে ৩২.৫ শতাংশ বা প্রতি তিনজনে একজন এই রোগে আক্রান্ত। ১৯৭৮ সালের পর এটিই সর্বোচ্চ হার। এমনকি যারা ১৫ বছর ধরে ভূগর্ভে কাজ করছেন, তাদের মধ্যেও এই রোগের হার গত ৪০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
কেন এই পরিস্থিতি
বিশেষজ্ঞদের মতে, খনিগুলোর বড় কয়লার স্তর শেষ হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে শ্রমিকদের অনেক বেশি পাথর কেটে কাজ করতে হচ্ছে। এই পাথরগুলোতে সিলিকা থাকে, যা কয়লার ধূলিকণার চেয়ে ২০ গুণ বেশি বিষাক্ত। এটি ফুসফুসে প্রবেশ করে দীর্ঘমেয়াদী ও প্রাণঘাতী ক্ষত সৃষ্টি করে।
এনআইওএসএইচ-এর মহামারী বিশেষজ্ঞ স্কট ল্যানি বলেন, শ্রমিকদের এমনভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে যেন তারা মানুষ নয়, বরং ক্ষয়িষ্ণু যন্ত্র। এই রোগের হাত থেকে তাদের রক্ষা করার পদক্ষেপগুলো বর্তমানে ধীরগতিতে চলছে।
আইনি ও রাজনৈতিক জটিলতা
২০২৪ সালে জো বাইডেন প্রশাসন সিলিকা ধূলিকণা নিয়ন্ত্রণে কঠোর নিয়ম চালু করেছিল। তবে খনি শিল্পের মালিকপক্ষের মামলার কারণে বর্তমানে এই নিয়ম কার্যকর হওয়ার বিষয়টি অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনও এই নিয়ম কার্যকরে দীর্ঘস্থায়ী স্থবিরতা বজায় রাখার কথা জানিয়েছে।
বর্তমানে খনিগুলোতে কাজ করা শ্রমিকদের পাশাপাশি অবসরপ্রাপ্তদের মধ্যেও এই রোগের প্রভাব প্রকট। ন্যাশনাল মাইনিং অ্যাসোসিয়েশন দাবি করেছে যে, বর্তমানে শনাক্ত হওয়া রোগগুলো পুরোনো এক্সপোজারের কারণে হচ্ছে, তবে খনি শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা কর্মীরা মনে করছেন, যথাযথ সুরক্ষার অভাবই হাজার হাজার শ্রমিকের জীবন হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।