দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে স্টারবাকসের জাতীয় সদর দপ্তরে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। ১৯৮০ সালের গুয়াংজু অভ্যুত্থানের বার্ষিকীতে ‘ট্যাঙ্ক ডে’ নামে একটি বিতর্কিত বিপণন প্রচারণা চালানোর ঘটনায় মানহানির অভিযোগে এই অভিযান চালানো হয়েছে। এই ঘটনাটি দেশজুড়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ এবং ব্যাপক বয়কটের জন্ম দিয়েছে, যা স্টারবাকসের মতো বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানের জন্য বড় ধরনের আইনি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ঘটনার পটভূমি
মে মাসে স্টারবাকস কোরিয়া তাদের একটি কফি টাম্বলার প্রচারণার নাম দেয় ‘ট্যাঙ্ক ডে’। ঘটনাক্রমে সেই দিনটি ছিল ১৯৮০ সালের গুয়াংজু অভ্যুত্থানের বার্ষিকী, যেখানে সামরিক বাহিনীর অভিযানে শত শত মানুষ নিহত হয়েছিল। প্রচারণায় ব্যবহৃত ‘ট্যাঙ্ক’ শব্দটি সামরিক বাহিনীর দমন-পীড়নের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়েছে। এছাড়া প্রচারণায় ব্যবহৃত ‘ট্যাক অন দ্য টেবিল’ স্লোগানটিও ১৯৮৭ সালে পুলিশি হেফাজতে নিহত এক ছাত্রনেতার ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ায় সমালোচনার ঝড় ওঠে।
কোম্পানির অবস্থান ও তদন্ত
স্টারবাকস কোরিয়ার পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান শিনসেগা গ্রুপ জানিয়েছে, তারা বিষয়টি নিয়ে অভ্যন্তরীণ তদন্ত করেছে এবং এটি অনিচ্ছাকৃত ভুল ছিল বলে দাবি করেছে। তাদের ভাষ্যমতে, বিপণন দলের সদস্যরা ঐতিহাসিক ঘটনার সঙ্গে এই প্রচারণার যোগসূত্র বুঝতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। এই বিতর্কের জেরে স্টারবাকস কোরিয়া তাদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করেছে এবং বিক্রয়কর্মী ও কর্মকর্তাদের জন্য বিশেষ ইতিহাস ক্লাসের আয়োজন করেছিল।
রাজনৈতিক প্রভাব
এই বিতর্কটি কেবল সামাজিক অন্দোলনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। প্রেসিডেন্ট লি জায়ে মিউং এই প্রচারণাকে গুয়াংজুর ভুক্তভোগীদের জন্য চরম অপমান হিসেবে অভিহিত করেন। এদিকে স্থানীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলগুলো বিষয়টিকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে। সরকারের বয়কটের আহ্বানের বিপরীতে অনেক ডানপন্থী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব স্টারবাকসের কাপ নিয়ে জনসমাবেশে উপস্থিত হয়ে সরকারের অতিরিক্ত হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।