ইরানের রাজধানী তেহরানে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের একটি রুট নির্ধারণে ওমানের সঙ্গে চূড়ান্ত পর্যায়ে চুক্তি হচ্ছে। এই প্রণালীটি বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় আন্তর্জাতিক মহলে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
চুক্তির বিস্তারিত প্রকাশ না করলেও ইসমাইল বাকাই সতর্ক করে বলেছেন, ওমানের সঙ্গে চুক্তি হলেও এটি হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে না। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ এবং ইরানের বন্দরগুলোতে বিভিন্ন আগ্রাসী পদক্ষেপের কারণে অঞ্চলটি এখনো নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে। এই প্রস্তাবের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা ওমান এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।
উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারিতে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত শুরুর পর থেকে তেহরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচল প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন যে, দ্রুত এই প্রণালী খুলে দেওয়া না হলে ইরানকে কঠিন পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি জানিয়েছেন, নতুন এই রুটটি অস্থায়ী ভিত্তিতে দুই থেকে চার মাসের জন্য চালু হতে পারে। এর আগে জানা গিয়েছিল, এই রুট ব্যবহারের ক্ষেত্রে ইরান ৫ থেকে ৭ শতাংশ পর্যন্ত মাশুল আদায়ের প্রস্তাব করছে। যেখানে ওমান ৩ শতাংশ এবং যুক্তরাষ্ট্র কোনো মাশুল না নেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি জনসমক্ষে না আসায় তার অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে খামেনির সঙ্গে যোগাযোগ করা কিছুটা কঠিন হলেও তাদের মধ্যে কার্যকর আলোচনা হচ্ছে।