যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ডাকোটার খামারি এরিক গ্রপার এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, দেশটিতে গরুর মাংসের দাম রেকর্ড পরিমাণ বাড়লেও এর সুফল পাচ্ছেন না উৎপাদনকারী বা সরবরাহকারীরা। বর্তমানে সুপারমার্কেটগুলোতে গরুর মাংসের দাম সাধারণ মূল্যস্ফীতির হারের তুলনায় তিন গুণ বেশি হারে বেড়েছে। চাহিদা ও জোগানের অসামঞ্জস্যের কারণে সাধারণ ভোক্তারাও উচ্চমূল্যের চাপে রয়েছেন।
পটভূমি
যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিখাত বর্তমানে গবাদি পশুর তীব্র সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। খরার প্রভাব এবং বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাবে ১৯৫১ সালের পর থেকে বর্তমানে দেশটিতে গবাদি পশুর সংখ্যা সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। সাউথ ডাকোটার খামারি এরিক গ্রপার জানান, খরায় পানির উৎস শুকিয়ে যাওয়ায় তাকে অতিরিক্ত খরচ করে পানি সরবরাহ করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে ট্রাক, ফেন্সিং পোস্ট এবং তারের মতো প্রয়োজনীয় উপকরণের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেছে। তিনি বলেন, রেকর্ড দামে গরু বিক্রি করলেও অতিরিক্ত উৎপাদন খরচের কারণে তার বাড়তি কোনো মুনাফা থাকছে না।
সরবরাহ চেইনের অবস্থা
গবাদি পশু বড় করার জন্য ব্যবহৃত ফিডলট কোম্পানিগুলোও একই সংকটে রয়েছে। উচ্চ দামে গরু কেনার ফলে তারাও বাড়তি মুনাফা করতে পারছে না। অন্যদিকে, মিটপ্যাকিং বা মাংস প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থাও নাজুক। বাজারে মাংসের সরবরাহ কম হওয়ায় এসব কারখানা পূর্ণ সক্ষমতায় চলতে পারছে না, যার ফলে তাদের পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। শীর্ষস্থানীয় মিটপ্যাকার টাইসন ফুডস তাদের আর্থিক প্রতিবেদনে বড় ধরনের ক্ষতির কথা জানিয়েছে।
ভোক্তা ও রেস্তোরাঁ ব্যবসা
মাংসের দাম বাড়ার প্রভাব পড়েছে রেস্তোরাঁগুলোতেও। ওমাহার একটি বার্গার রেস্তোরাঁ মালিক পল আরবান জানান, উপকরণের দাম বাড়লেও তারা গ্রাহকদের কথা চিন্তা করে বার্গারের দাম একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখার চেষ্টা করছেন। ক্রেতারা দাম বাড়লে মুরগির মাংস বা আমদানিকৃত সস্তা মাংসের দিকে ঝুঁকে পড়ায় ব্যবসায়ীরা পণ্যের দাম অতিরিক্ত বাড়াতে পারছেন না।
পরবর্তী পদক্ষেপ
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজারে গবাদি পশুর সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই উচ্চমূল্য অব্যাহত থাকতে পারে। একটি গরু প্রজনন উপযোগী হওয়া এবং তা বিক্রয়যোগ্য ওজনে পৌঁছাতে দীর্ঘ সময় প্রয়োজন। তাই স্বল্পমেয়াদে মাংসের বাজারে বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখছেন না সংশ্লিষ্টরা।