যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে মার্কিন সেনাবাহিনী ছোট ড্রোন বা ইউএএস (sUAS) ধ্বংসের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নতুন প্রজন্মের ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। সেনাবাহিনী এমন একটি ক্ষেপণাস্ত্র খুঁজছে যার প্রতিটি ইউনিটের মূল্য হবে ১ লাখ ৫০ হাজার ডলারের কম। এই ক্ষেপণাস্ত্রটি রেথিয়নের কোয়োট লঞ্চারের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।
প্রতিরক্ষা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, নেক্সট জেনারেশন সি-ইউএএস মিসাইল (NGCM) নামের এই ক্ষেপণাস্ত্রটি বর্তমান ব্যবস্থার চেয়ে আরও দ্রুত এবং দূরপাল্লার লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হবে। এটি ২১ থেকে ১ হাজার ৩২০ পাউন্ড ওজনের ড্রোন মোকাবিলায় ব্যবহৃত হবে।
সেনাবাহিনী জানিয়েছে, নতুন এই ক্ষেপণাস্ত্রটিকে কমপক্ষে ১৬ কিলোমিটার দূরত্বের ছোট ড্রোন ধ্বংস করতে হবে। তবে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, এটি ২৫ কিলোমিটার দূরের এবং ৮ কিলোমিটার উচ্চতার ড্রোন ধ্বংস করতে সক্ষম হওয়া প্রয়োজন। এছাড়া অপারেটরের নির্দেশের ৫ সেকেন্ডের মধ্যে এটি লঞ্চার থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা থাকতে হবে।
আগামী ২০ আগস্টের মধ্যে এ বিষয়ে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে প্রস্তাবনা আহ্বান করা হয়েছে। সেনাবাহিনী অন্তত ৫ হাজার ক্ষেপণাস্ত্র সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। ২০২৮ সালের প্রথম প্রান্তিকে ৫০টি এনজিসিএম ক্ষেপণাস্ত্র অপারেশনাল মূল্যায়নের জন্য প্রস্তুত রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
প্রস্তাবনা অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্রটি রেথিয়নের কোয়োট লঞ্চারে কোনো পরিবর্তন ছাড়াই ব্যবহার করা যাবে। এছাড়া এটি প্যাট্রিয়ট, এএন/টিপিকিউ-৫৩ এবং সেন্টিনেল এ৩ ও এ৪ রাডার সিস্টেমের সাথে কাজ করতে সক্ষম হতে হবে।
এই ক্ষেপণাস্ত্রের দুটি সংস্করণ থাকবে। একটি স্থির সাইটের জন্য, যাতে ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার এবং সেন্সর থাকবে। অন্যটি মোবাইল সংস্করণ, যা কৌশলগত যানবাহনে বসিয়ে ব্যবহার করা যাবে। উচ্চমূল্যের ব্যবস্থার পরিবর্তে কম খরচে ড্রোন মোকাবিলার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নিয়েছে মার্কিন সেনাবাহিনী।