অস্ট্রেলিয়ার ডারউইনে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রিচার্ড মার্লেস ঘোষণা করেছেন যে, অস্ট্রেলিয়া যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি এআইএম-২৬০ জয়েন্ট অ্যাডভান্সড ট্যাকটিক্যাল মিসাইল (জেটিএম) বা দূরপাল্লার আকাশ-থেকে-আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই ক্রয়ের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে এই বিশেষ প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্রের অধিকারী হতে যাচ্ছে। প্রতিরক্ষা সক্ষমতা শক্তিশালী করার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক সামঞ্জস্যতা বজায় রাখার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জানান, প্রায় ৭৩৬ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার (প্রায় ৫১৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) ব্যয়ে রয়্যাল অস্ট্রেলিয়ান এয়ার ফোর্সের (আরএএএফ) জন্য ৪৫০টি ক্ষেপণাস্ত্র কেনা হবে। এই অস্ত্রশস্ত্র এফ/এ-১৮এফ সুপার হর্নেট, এফ-৩৫এ লাইটনিং টু এবং ইএ-১৮জি গ্রাউলার যুদ্ধবিমানের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। লকহিড মার্টিনের তৈরি এই ক্ষেপণাস্ত্র মার্কিন সামরিক বাহিনীর অত্যন্ত গোপন ও গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হিসেবে বিবেচিত হয়।
দেশীয় প্রযুক্তির রকেট পরীক্ষা
এআইএম-২৬০ ক্ষেপণাস্ত্র সংগ্রহের ঘোষণার পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া নিজেদের তৈরি সলিড ফুয়েল রকেট মোটর সফলভাবে পরীক্ষা করেছে। দেশটির দক্ষিণ অঞ্চলে পরিচালিত এই পরীক্ষায় ‘কুনাইবা রাইজিং ৩.০’ নামের মোটরটি ব্যবহার করা হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি গ্রুপ এবং থ্যালেস অস্ট্রেলিয়ার যৌথ উদ্যোগে এটি তৈরি করা হয়েছে।
প্রতিরক্ষা শিল্প মন্ত্রী প্যাট কনরয় জানান, এই সাফল্য অস্ট্রেলিয়ার নিজস্ব প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরির সক্ষমতা এবং কৌশলগত মিসাইল সিস্টেমের উন্নয়নের পথকে আরও প্রশস্ত করবে। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১০০ কেজি ওজনের এই রকেট মোটর প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফর্ম করেছে বলে জানিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা বিভাগ।