ইরানের তেহরানে দেশটির পার্লামেন্ট হরমুজ প্রণালী দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং অন্যান্য ‘শত্রুভাবাপন্ন দেশগুলোর’ জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপের একটি পরিকল্পনা পর্যালোচনা করছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের কারণে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ না পাওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকতে পারে। এই পদক্ষেপটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ হরমুজ প্রণালী বিশ্বজুড়ে অপরিশোধিত তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের অন্যতম প্রধান ও কৌশলগত রুট।
প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর কার্গোর মূল্যের ওপর সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ হারে মাশুল আরোপ করা হতে পারে। এছাড়া কোনো জাহাজ শর্ত ভঙ্গ করলে তাদের কার্গোর ২০ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
এরই মধ্যে ইরান জানিয়েছে যে, ওমানের সঙ্গে জাহাজ চলাচলের রুট নিয়ে তারা একটি চুক্তির চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তেহরানের ভাষ্যমতে, জাহাজগুলো প্রণালীর উত্তর করিডোর দিয়ে প্রবেশ করবে এবং দক্ষিণ করিডোর দিয়ে বের হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, হরমুজ একটি আন্তর্জাতিক জলপথ এবং এর ওপর কোনো একক পক্ষের নিয়ন্ত্রণ বা মাশুল আরোপের অধিকার নেই। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, বর্তমানে নৌ-অবরোধের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রই প্রণালীটি নিয়ন্ত্রণ করছে।
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে ইরানের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই জলপথ ঘিরে উত্তেজনা বেড়েছে। যুদ্ধের প্রভাবে গত পাঁচ মাসে জ্বালানি ও সার সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে এবং বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও শান্তি আলোচনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে, তবুও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো নতুন করে সংঘাত শুরুর আশঙ্কায় রয়েছে, যা তাদের গুরুত্বপূর্ণ তেল অবকাঠামোর জন্য ভয়াবহ হুমকি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।