যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম ভার্জিনিয়ায় অভিবাসীদের ধরতে ‘অপারেশন কান্ট্রি রোডস’ নামে একটি ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করেছে দেশটির অভিবাসন ও শুল্ক এনফোর্সমেন্ট বিভাগ (আইস)। দুই সপ্তাহব্যাপী এই অভিযানে প্রায় ৬০০ জনকে আটক করা হয়েছে। এনপিআর-এর প্রতিবেদক সার্জিও মার্টিনেজ-বেলট্রান জানিয়েছেন, আটককৃতদের বেশিরভাগেরই কোনো পূর্ববর্তী অপরাধের রেকর্ড নেই। এই অভিযানের ফলে পশ্চিম ভার্জিনিয়ার স্থানীয় জেলখানাগুলো আইস-এর বন্দিদের আর জায়গা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আটকের কৌশল ও প্রভাব
গত বছর শীতকালে শুরু হওয়া এই অভিযানে স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহায়তা নিয়েছে আইস। জন ডেনভারের বিখ্যাত গান ‘টেক মি হোম, কান্ট্রি রোডস’-এর নামানুসারে এই অভিযানের নামকরণ করা হয়। তবে স্থানীয়দের মতে, এই নাম এবং অভিযানের উদ্দেশ্য সাংঘর্ষিক, কারণ যারা এই এলাকায় বসবাস করছিলেন তাদেরকেই এখন বহিষ্কার করা হচ্ছে। ক্লার্কসবার্গের ফেডারেল আদালতে এ সংক্রান্ত মামলার শুনানি নিয়মিত চলছে, যেখানে অনেক পরিবারের সদস্যরা তাদের প্রিয়জনদের ফিরে পেতে লড়াই করছেন।
আইনি চ্যালেঞ্জ
পশ্চিম ভার্জিনিয়ার ফেডারেল আদালতগুলো এই অভিযানের কার্যপদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। সেখানকার চারজন বিচারক এই কার্যক্রমকে সাংবিধানিক শৃঙ্খলার ওপর আঘাত বলে অভিহিত করেছেন। এসিএলইউ অব ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার কাইল ভাস জানিয়েছেন, আটককৃতদের অনেকের ক্ষেত্রে হেবিয়াস পিটিশন সফল হচ্ছে এবং আদালত তাদের মুক্তি দিচ্ছে। তবে অনেকের আশ্রয়ের আবেদন নাকচ হয়ে যাওয়ায় তাদের দেশত্যাগের অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রশাসনের অধীনে জাতীয় পর্যায়ে আইস-এর গ্রেফতারের হার রেকর্ড পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। জুলাই মাসে প্রতিদিন গড়ে ১,৪০০ জন অভিবাসীকে আটক করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে আইস-এর এই অংশীদারিত্বমূলক কৌশল জাতীয় নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বর্তমান ডিএইচএস সেক্রেটারি মার্কওয়াইন মুলিন এই কৌশলের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন। তবে পশ্চিম ভার্জিনিয়ায় এই অভিযানের আইনি প্রক্রিয়ায় ব্যর্থতা ও স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিরোধের বিষয়টি অভিবাসন ইস্যুতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।