যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসের হ্যারি রিড আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি ফ্লাইটের ভেতর যাত্রীর পাওয়ার ব্যাংক থেকে আগুন লাগার ঘটনার পর বিশ্বজুড়ে বিমান সংস্থাগুলো লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি নিয়ে নতুন করে সতর্কতা জারি করেছে। ব্রিটিশ প্রযুক্তি সাংবাদিক বেন ওডেকি জানান, জুন মাসে লাস ভেগাসগামী ফ্লাইটে এক যাত্রীর পাওয়ার ব্যাংক অতিরিক্ত গরম হয়ে সিটে আগুন ধরে যায়। এ সময় আতঙ্কিত ক্রু সদস্যরা দ্রুত ডিভাইসটি পানিতে ডুবিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং বিমানটি জরুরি অবতরণ করে। এই ঘটনাটি বিমানে ব্যাটারিচালিত ডিভাইসের ঝুঁকিকে নতুন করে সামনে এনেছে।
কেন এই সতর্কতা
যুক্তরাজ্যের সিভিল এভিয়েশন অথরিটির (সিএএ) জোনাথন নিকলসন জানান, গত কয়েক বছর ধরে বিমান শিল্পের অন্যতম প্রধান ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি। বিশ্বজুড়ে প্রতি সপ্তাহে অন্তত দুটি বড় ঘটনা ঘটছে, যেখানে এই ব্যাটারি থেকে ধোঁয়া বা আগুনের সৃষ্টি হয়েছে। এ বছরের জানুয়ারিতে দক্ষিণ কোরিয়ার গিমহাই বিমানবন্দরে এয়ার বুসানের একটি বিমান পার্কিং এলাকায় থাকা অবস্থায় ব্যাটারি প্যাক বিস্ফোরণে ধ্বংস হয়ে যায়। ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইএটিএ) এই ঝুঁকি কমাতে ‘ট্রাভেল স্মার্ট উইথ লিথিয়াম ব্যাটারি’ নামে একটি বৈশ্বিক প্রচারণা শুরু করেছে।
বিশেষজ্ঞদের অভিমত
ন্যাশনাল ফিজিক্যাল ল্যাবরেটরির প্রকৌশলী পিয়েরে কুবিয়াক জানান, লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি খুব দ্রুত ৭০০ থেকে ১০০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উত্তপ্ত হতে পারে, যা আকাশে ৩০ হাজার ফুট উঁচুতে নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত কঠিন। তিনি আরও বলেন, সস্তা ও নিম্নমানের ব্যাটারি প্যাক এবং ভ্যাপের ব্যাপক ব্যবহার এই ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে। এছাড়া অনেক সময় যাত্রীরা ভুল ক্যাবল ব্যবহার করেন, যা ব্যাটারির ক্ষতি করে।
প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, পাওয়ার ব্যাংক বা ব্যাটারিচালিত ডিভাইস কখনোই চেকড লাগেজে রাখা উচিত নয়। এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের মতে, কোনো ডিভাইস সিটের নিচে পড়ে গেলে তা উদ্ধারের চেষ্টায় দেরি না করে ক্রুদের জানানো জরুরি। বর্তমানে লিথিয়াম-আয়ন প্রযুক্তির অর্থনৈতিক কোনো বিকল্প না থাকায় প্রযুক্তি পরিবর্তনের চেয়ে বরং বর্তমান প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিমানে আগুন নেভানোর বিশেষ ব্যবস্থা জোরদারের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।