বাংলাদেশের হবিগঞ্জের সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে বিরল প্রজাতির তুষার-ভ্রু চটক পাখির দেখা পাওয়া গেছে। গবেষক ও বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ আ ন ম আমিনুর রহমান এই তথ্য জানিয়েছেন। সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের গহীন বনের একটি পুকুরে পাখিটির বিচরণ প্রত্যক্ষ করা হয়, যা দেশের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের গুরুত্বের দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
বন বিভাগের তৈরি একটি কৃত্রিম জলাশয়ের কাছে পাখিটিকে প্রথম দেখা যায়। এটি মূলত এ দেশের এক বিরল পরিযায়ী পাখি। স্নোয়ি-ব্রাউড ফ্লাইক্যাচার বা তুষার-ভ্রু চটক পাখিটি লম্বায় মাত্র ১১ সেন্টিমিটার এবং ওজনে ৯ গ্রাম হয়ে থাকে। এদের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এদের প্রশস্ত তুষারশুভ্র ভ্রুরেখা।
পাখিটির গঠনশৈলী
তুষার-ভ্রু চটক প্রজাতির পুরুষ ও স্ত্রী পাখির মধ্যে শারীরিক পার্থক্যের ছাপ স্পষ্ট। পুরুষ পাখিটির দেহ ধূসর-নীল ও বুক লালচে-কমলা রঙের হয়। অন্যদিকে স্ত্রী পাখিটির ওপরের অংশ জলপাই-বাদামি এবং বুক ঘিয়ে-সাদা রঙের। এদের চোখের রঙ বাদামি ও ঠোঁট কালো হয়ে থাকে।
আবাসস্থল ও স্বভাব
শীতকালে এই পাখিদের সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের চিরসবুজ বনে বিচরণ করতে দেখা যায়। এছাড়া কদাচ ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের পাতাঝরা বনেও এদের উপস্থিতি পাওয়া যায়। এরা সাধারণত ঘন ঝোপঝাড় বা বাঁশবনে একাকী অথবা জোড়ায় বিচরণ করে। ছোট ছোট কীটপতঙ্গ, কেঁচো এবং বনের ফল এদের প্রধান খাদ্য।
প্রজনন ও জীবনকাল
এপ্রিল থেকে জুন মাস এদের প্রজনন সময়। এই সময়ে তারা পাহাড়ের ঢালে পাথরের খাঁজে বা গাছের গোড়ায় কাপ আকৃতির বাসা তৈরি করে। সাধারণত তিন থেকে চারটি ডিম পাড়ে এবং স্ত্রী ও পুরুষ পাখি মিলে ছানা লালন-পালন করে। সাধারণত এদের আয়ু ২ থেকে ৩ বছর হলেও ৮-৯ বছর পর্যন্ত বাঁচার রেকর্ড রয়েছে।