যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ও তেহরানে ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত নিরসনে ইতিবাচক বার্তা পাওয়া যাচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি বিশ্বাস করেন ইরান যুদ্ধ খুব দ্রুত শেষ হবে এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে একটি চুক্তি হওয়ার পথে রয়েছে। এই সংঘাতের অবসানের সম্ভাবনা ও মার্কিন সামরিক সক্ষমতা নিয়ে তৈরি হওয়া প্রশ্নগুলো বর্তমান ভূ-রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী করিম ঘারিবাবাদি জানিয়েছেন, তারা যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ইতিবাচক বার্তা পাচ্ছেন। তবে বার্তাগুলোর উৎস বা ধরন সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত জানাননি। ঘারিবাবাদি আরও জানান, আলোচনার অগ্রগতির জন্য ওমানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় চুক্তিতে পৌঁছানো এবং হরমুজ প্রণালিতে নতুন সীমানা নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
অস্ত্রের মজুত ও সামরিক পরিস্থিতি
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধ অবসানের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন যে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর কিছু নির্দিষ্ট অস্ত্রের মজুত কমে এসেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, পাঁচ মাসের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র তাদের অনেক নিখুঁত দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ফেলেছে। ট্রাম্প অবশ্য আশ্বস্ত করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এখনো অনেক শক্তিশালী অস্ত্র রয়েছে এবং প্যাট্রিয়ট ও টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির নতুন কারখানা স্থাপন করা হচ্ছে।
হরমুজ প্রণালির অস্থিরতা
ইরানের কেশম দ্বীপের কাছে পুনরায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তেহরান দাবি করেছে, তারা ‘শত্রুভাবাপন্ন লক্ষ্যবস্তু’র বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে। এরই মধ্যে ইরানের পার্লামেন্টে একটি খসড়া বিল নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে, যার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নৌযান চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার বাঘের গালিবাফ ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক আহ্বান ও সামরিক হুমকির মিশ্র নীতির অভিযোগ তুলেছেন। এর মধ্যেই অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার করতে কিরমান প্রদেশ থেকে মোসাদের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ২১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ইরানের গোয়েন্দা সংস্থা। বর্তমানে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ইরান ও ওমানের মধ্যে একটি খসড়া চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।