সৌদি আরবের মক্কায় সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ একটি ত্রিদেশীয় যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন। ৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত এই চুক্তির মাধ্যমে দেশগুলো ন্যাটোর আদলে একটি সম্মিলিত প্রতিরক্ষা জোট গঠন করেছে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সংঘাত নিরসনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চুক্তির মূল শর্ত
যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলা। এতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তিন রাষ্ট্রের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র আক্রমণ হলে তা তিন দেশের ওপরই আক্রমণ হিসেবে গণ্য হবে। এছাড়া এই চুক্তির মাধ্যমে দেশগুলোর মধ্যে প্রতিরক্ষা খাতের সব ধরনের সহযোগিতা আরও জোরদার করা হবে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক ভ্রাতৃত্ব ও অভিন্ন কৌশলগত স্বার্থের ওপর ভিত্তি করেই এই জোট গঠন করা হয়েছে। দেশগুলোর ভাষ্যমতে, এই সম্মিলিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা অঞ্চল এবং এর বাইরে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে। উল্লেখযোগ্য যে, গত বছরের সেপ্টেম্বরে সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে পৃথক একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। তুর্কি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আজকের এই নতুন চুক্তি পূর্বের কোনো দ্বিপাক্ষিক চুক্তিকে প্রতিস্থাপন করবে না।
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ
এই জোটের কার্যকারিতা খুব দ্রুতই পরীক্ষার মুখে পড়তে পারে। বিশেষ করে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর পক্ষ থেকে সৌদি আরবের ওপর ধারাবাহিক হামলার হুমকির প্রেক্ষাপটে এই চুক্তিটি তাৎপর্যপূর্ণ। এদিকে, আটলান্টিক কাউন্সিলের সিনিয়র ফেলো মাইকেল কুগেলম্যানের মতে, এটি দেশগুলোর গভীর নিরাপত্তা সম্পর্কের যৌক্তিক বহিঃপ্রকাশ। তবে রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষক এইচ এ হেলিয়ারের মতে, চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হলেও বাস্তবে তা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।