মধ্যপ্রাচ্যের হরমুজ প্রণালীতে ট্যাঙ্কার নাবিকদের নিরাপত্তা ঝুঁকি এখনো কাটেনি। ট্যাঙ্কার শিল্প বিষয়ক সংস্থা ইন্টারট্যাঙ্কোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক টিম উইলকিনস জানিয়েছেন, এই জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল এখনো অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। ইরানি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে প্রণালীটি খোলার জন্য নতুন শর্তের তালিকা দেওয়া হলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী কোনো সমঝোতা এখনো অনেক দূরে।
বর্তমানে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কমে গেছে। জানুয়ারি মাসে যেখানে প্রতিদিন প্রায় ১৫০টি জাহাজ চলাচল করত, সেখানে এখন পরিস্থিতি এতটাই প্রতিকূল যে রাতের বেলায় মাত্র ১১ থেকে ১৫টি জাহাজ চলাচল করতে পারছে। টিম উইলকিনস জানান, সম্প্রতি বেশ কয়েকটি জাহাজ ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে। এর মধ্যে গত সপ্তাহে একটি গ্যাস ট্যাঙ্কারে ভয়াবহ হামলার পর সেটিকে জরুরি ভিত্তিতে সরিয়ে নিতে হয়েছিল।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালীর ওমান উপকূল বরাবর একটি বিকল্প রুট ব্যবহারের সুযোগ করে দিচ্ছে, যা ‘ইউএস-ফ্যাসিলিটেটেড ট্রানজিট’ হিসেবে পরিচিত। তবে এই রুটটিও সম্পূর্ণ নিরাপদ নয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এই পথে বড় জাহাজগুলোকে উপকূলের খুব কাছাকাছি চলতে হচ্ছে, যা ঐতিহ্যগতভাবে বড় ট্যাঙ্কার চলাচলের জন্য উপযোগী নয়। এছাড়া আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মূল জাহাজ চলাচলের পথটি বর্তমানে মাইন বা জলমাইন থাকার কারণে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে আছে।
ইন্টারট্যাঙ্কো জানিয়েছে, স্বাভাবিক বাণিজ্য ফিরিয়ে আনতে হলে সবার আগে প্রণালীর মাইনগুলো অপসারণ করতে হবে। একই সঙ্গে তেহরান থেকে নির্দেশিত কমান্ড ও কন্ট্রোল সিস্টেমের মাধ্যমে জাহাজগুলোতে আর কোনো হামলা হবে না—এমন নিশ্চয়তা প্রয়োজন। এছাড়া ট্রানজিটের সময় নির্ধারণ এবং জাহাজ চলাচলের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা তৈরির মতো মৌলিক বিষয়গুলো নিয়ে সমঝোতা হওয়া অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।