যুক্তরাষ্ট্রের টাম্পায় আয়োজিত ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির একটি সম্মেলনে মার্কিন স্ট্রাটেজিক কমান্ডের শীর্ষ কর্মকর্তা অ্যাডমিরাল রিচার্ড কোরেল বলেছেন, বর্তমান যুগে কোনো সংঘাতই নির্দিষ্ট অঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির যুগে যুদ্ধের ময়দান এখন বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত এবং তথ্য নিয়ন্ত্রণ করা এখন ভৌগোলিক অঞ্চল নিয়ন্ত্রণের মতোই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
অ্যাডমিরাল কোরেল উল্লেখ করেন, যদিও আঞ্চলিক বা স্থানীয় যুদ্ধগুলো সাধারণত ভূখণ্ডের ওপর ভিত্তি করেই হয়, তবে আধুনিক সংঘাতগুলো যুদ্ধক্ষেত্রের সীমানা ছাড়িয়ে যায়। তিনি বলেন, এখন আর আঞ্চলিক সংঘাত বলে কিছু নেই, প্রতিটি সংঘাতই তথ্যগত দিক থেকে বৈশ্বিক।
এর প্রভাব সম্পর্কে তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখন ভৌগোলিক সীমানার বাইরের ঘটনার ওপরও নির্ভর করে। কারণ একটি যুদ্ধ এক জায়গায় শুরু হলেও এর সাইবার অপারেশন, গুজব ছড়ানো, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং রাজনৈতিক প্রভাব মুহূর্তের মধ্যে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এর লক্ষ্য হলো প্রতিপক্ষের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা সংকুচিত করা এবং কৌশলগত ফলাফল নির্ধারণ করা।
ইউক্রেন যুদ্ধের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সেখানে প্রথাগত ট্যাংক বা কামানের যুদ্ধের পাশাপাশি ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক স্পেকট্রাম ব্যবহার করে গোপনে সাইবার ও ড্রোন যুদ্ধ চলছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এই চ্যালেঞ্জকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ডিপফেক বা এআই-চালিত অপপ্রচার সাধারণ মানুষকে প্রভাবিত করার পাশাপাশি সরাসরি সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকেও বাধাগ্রস্ত করতে পারে বলে তিনি মত দেন।
কোরেল আরও বলেন, ভবিষ্যতে সংঘাতময় পরিবেশে তথ্য নিজেই যুদ্ধের একটি বড় অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই কমান্ডারদের এমন তথ্য ব্যবস্থায় কাজ করতে হবে যা প্রতিপক্ষের বিকৃতি ও জালিয়াতি মোকাবিলা করতে সক্ষম। আধুনিক সামরিক অভিযানের ক্ষেত্রে মহাকাশ প্রযুক্তি, সাইবার নেটওয়ার্ক এবং ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক সিস্টেম একে অপরের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় সবকিছুর সুরক্ষা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।