সিরিয়ার দামেস্কে এক বিশেষ আদালতে সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ এবং তার ছোট ভাই মাহের আল-আসাদকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ১৪ বছর ধরে চলা গৃহযুদ্ধে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের মৃত্যু এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে তাদের অনুপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করা হয়েছে। বিচারক ফাখরেদ্দিন আল-আরিয়ান আদালতের সরাসরি সম্প্রচারিত শুনানিতে বলেন, বাশার আসাদ রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোকে ব্যবহার করে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছেন। সিরিয়ায় আসাদ পরিবারের পাঁচ দশকের শাসনের অবসান ঘটার ২০ মাস পর এই প্রথম দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে এমন রায় দেওয়া হলো।
একই মামলায় দণ্ডাদেশ পেয়েছেন বাশার আসাদের মামাতো ভাই আতেফ নাজিব। ২০১১ সালে দারা প্রদেশে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন তিনি। সেই সময় দারা প্রদেশে স্কুলের দেয়ালে সরকারবিরোধী গ্রাফিতি লেখার অভিযোগে একদল কিশোরকে আটক ও নির্যাতনের ঘটনায় আতেফ নাজিব সরাসরি যুক্ত ছিলেন, যা পরবর্তী সময়ে বড় ধরনের গণ-আন্দোলন ও গৃহযুদ্ধের সূত্রপাত ঘটায়। আদালতের কার্যক্রমের সময় আতেফ নাজিবকে কারাগারের খাঁচার ভেতর উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সরকার পতনের পর বাশার আসাদ ও তার ভাই মাহের পালিয়ে রাশিয়ায় আশ্রয় নেন। সিরিয়ার নতুন সরকার তাদের হস্তান্তরের জন্য রাশিয়ার কাছে আবেদন জানিয়েছে। বাশার আসাদের ভাই মাহের আল-আসাদ সিরিয়ার সেনাবাহিনীর চতুর্থ আর্মার্ড ডিভিশনের কমান্ডার ছিলেন। তার বিরুদ্ধে হত্যা, নির্যাতন, চাঁদাবাজি এবং মাদক পাচারের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।