যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির উন্নয়নের গতি কমিয়ে নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়েছেন প্রযুক্তি খাতের প্রভাবশালী নেতারা। অ্যানথ্রোপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদি এই খাতের উন্নয়নের গতি কমানোর আহ্বান জানানোর পর তাতে সমর্থন দিয়েছেন ওপেনএআই-এর স্যাম অল্টম্যান, ইলন মাস্ক ও মাইক্রোসফটের সিইও সত্য নাদেলা। প্রযুক্তির অনিয়ন্ত্রিত বিকাশ মানব নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন তারা। তবে এআই ল্যাবগুলোর এই আহ্বানের বিপরীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, উন্নয়ন ধীর করার সিদ্ধান্ত একান্তই কোম্পানিগুলোর নিজস্ব।
প্রেসিডেন্টের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা কাউন্সিলের কো-চেয়ার ডেভিড স্যাকস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, কোম্পানিগুলো যদি মনে করে তাদের মডেলগুলো ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, তবে তাদের নিজেরাই দায়িত্বশীল হওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কার্টেল গঠনের জন্য আইন পরিবর্তনের আশা না করে বা অন্যের অনুমতির অপেক্ষায় না থেকে কোম্পানিগুলোকে স্ব উদ্যোগে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে এআই নিয়ে সরকারের অবস্থানে বড় ধরনের পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা কম। ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি আয়ারল্যান্ড সফরে গিয়ে উল্লেখ করেছেন যে, এআই প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে চীনের চেয়ে এগিয়ে আছে এবং এই অবস্থান ধরে রাখাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। ট্রাম্পের ভাষ্যমতে, এআই প্রতিযোগিতায় যে জিতবে, সে বিশ্বজুড়ে প্রভাব বিস্তার করবে।
হাউস স্পিকার মাইক জনসনও সতর্ক করে বলেছেন, এআই নিয়ন্ত্রণে তাড়াহুড়ো করে আইন করা হলে তা যুক্তরাষ্ট্রকে চীনের সাথে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে দিতে পারে, যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি। তাই প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণে ভারসাম্য বজায় রাখাই সরকারের লক্ষ্য বলে জানান তিনি।
নিজেদের দায়বদ্ধতা প্রমাণের অংশ হিসেবে কিছু স্বেচ্ছাসেবী পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো। ওপেনএআই প্রধান স্যাম অল্টম্যান জানিয়েছেন, থার্ড-পার্টি মূল্যায়নকারীদের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা যাচাই করার প্রস্তাবটিতে তিনি সম্মত হয়েছেন। এতে উল্লেখযোগ্য খরচ হলেও, আমেরিকান প্রতিযোগিতার চাপে কোনো ধরনের বেপরোয়া কাজকে সমর্থন করা যায় না বলে মন্তব্য করেন তিনি।