যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডি.সি.-তে অবস্থিত কেনেডি সেন্টারের প্রধান ভবনটি দুই বছরের জন্য বন্ধ রাখার এবং ভবনটির প্রবেশপথে পুনরায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম যুক্ত করার পক্ষে ভোট দিয়েছে সেন্টারটির পরিচালনা পর্ষদ। বৃহস্পতিবার জুম মিটিংয়ের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র জানিয়েছে।
এর আগে গত মার্চ মাসে বোর্ড একই ধরনের সিদ্ধান্তের অনুমোদন দিলেও, একজন ফেডারেল বিচারক তা স্থগিত করেছিলেন। বিচারকের পর্যবেক্ষণ ছিল, এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো পর্যাপ্ত তথ্য বোর্ডের সদস্যদের কাছে ছিল না। নতুন এই সিদ্ধান্তের পর এখন বিষয়টি পুনরায় ফেডারেল আদালতের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২৫০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে এই সংস্কার কাজ সম্পন্ন হবে। এর মধ্যে কাঠামোগত মেরামত, মার্বেল মেঝে স্থাপন এবং প্রায় ১২ মিলিয়ন ডলারের শব্দ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত উন্নয়নমূলক কাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই সংস্কার কাজ চলাকালীন কেনেডি সেন্টারের মূল ক্যাম্পাসের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে এবং এটি ২০২৮ সালের গ্রীষ্মে পুনরায় খোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে কমপ্লেক্সটির ‘দ্য রিচ’ অংশটি সীমিত কার্যক্রমের জন্য খোলা রাখা হবে।
বোর্ডের সিদ্ধান্তে ভবনটির নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে ‘রিস্টোরড অ্যান্ড রেনোভেটেড বাই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প’। এটি আদালতের আগের আদেশের পরিপন্থী বলে মনে করছেন সমালোচকরা। কেনেডি সেন্টারের ট্রাস্টি হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী ডেমোক্রেটিক আইন প্রণেতারা জানান, প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব সম্পর্কে কোনো মূল্যায়ন ছাড়াই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ডিসেম্বরে ট্রাম্পের নাম যুক্ত করার পর থেকেই কেনেডি সেন্টারে নানামুখী সংকট তৈরি হয়। অনেক শিল্পী প্রতিবাদস্বরূপ অনুষ্ঠান বাতিল করেন এবং টিকিট বিক্রি উল্লেখযোগ্য হারে কমে যায়। ওয়াশিংটন ন্যাশনাল অপেরার মতো প্রধান আবাসিক সংস্থাগুলো ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে গেছে এবং ন্যাশনাল সিম্ফনি অর্কেস্ট্রা তীব্র আর্থিক সংকটে পড়েছে। এর মধ্যে কেনেডি সেন্টারের নাম পরিবর্তনের আইনি লড়াইয়ে এক জ্যাজ সংগীতশিল্পীর আইনি খরচ বাবদ আড়াই লক্ষাধিক ডলার প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।