ফ্রান্সের প্যারিসে ১৫ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত আইনটি দেশটির সাংবিধানিক আদালত বাতিল করেছে। প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সরকার প্রধানকে আইনটি নতুন করে লেখার নির্দেশনা দিয়েছেন। শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে এই উদ্যোগটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
আদালতের পর্যবেক্ষণ
আদালত জানিয়েছে, এই আইন বাস্তবায়নের জন্য প্রত্যেক ব্যবহারকারীকে, এমনকি প্রাপ্তবয়স্কদেরও, তাদের বয়স প্রমাণ করতে হতো। কিন্তু আইনটিতে বয়সের প্রমাণ যাচাইয়ের পদ্ধতি এবং সীমা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। যথাযথ আইনি সুরক্ষা ও পদ্ধতি নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ায় আদালত এই খসড়া আইনটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়।
পরবর্তী পদক্ষেপ
এই রায় পাওয়ার পর ফ্রান্সের শিশুরা আপাতত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের সুযোগ পেলেও বিষয়টি এখানেই শেষ হচ্ছে না। প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ প্রধানমন্ত্রী সেবাস্টিয়েন লেকোর্নুকে আদালতের উদ্বেগগুলো বিবেচনায় নিয়ে খসড়া আইনটি পুনরায় তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি আগেও বিভিন্ন সময়ে এই নিষেধাজ্ঞার প্রতি তার দৃঢ় সমর্থন ব্যক্ত করেছেন।
আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট
এর আগে অস্ট্রেলিয়া ১৬ বছরের কম বয়সীদের ফেসবুক, টিকটক, টুইচ এবং ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল, যা প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। এছাড়া ডেনমার্ক, যুক্তরাজ্য এবং কানাডাও শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে কঠোর বিধিনিষেধ বা নিষেধাজ্ঞা নিয়ে কাজ করছে। যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অঙ্গরাজ্যেও এ ধরনের আইন প্রস্তাব করা হয়েছে, তবে সেখানে সরাসরি নিষেধাজ্ঞার বদলে মূলত অভিভাবকের সম্মতির ওপর জোর দেওয়া হয়।