যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার ব্রোওয়ার্ড কাউন্টিসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে স্কুল জোনগুলোতে স্বয়ংক্রিয় গতি পরিমাপক ক্যামেরা বা স্পিড ক্যামেরা বসানো হচ্ছে। এই উদ্যোগটি চালকদের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রাক্তন শেরিফ অফিসের কর্মী কার্লোস অ্যাকোস্টাসহ অনেক চালক অভিযোগ করেছেন যে, এই ক্যামেরাগুলো নিরাপত্তার চেয়ে অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্যেই বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে।
ফ্লোরিডাসহ ক্যালিফোর্নিয়া, হাওয়াই, মিশিগান এবং মিনেসোটার মতো দুই ডজনেরও বেশি অঙ্গরাজ্যে এখন স্পিড ক্যামেরা বৈধ করা হয়েছে। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ক্যামেরাগুলো চালকদের গতি নিয়ন্ত্রণে বাধ্য করে এবং সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে জীবন বাঁচাতে সহায়তা করে। ইন্স্যুরেন্স ইনস্টিটিউট ফর হাইওয়ে সেফটির ইঞ্জিনিয়ার রাউল অ্যাভেলার জানান, বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে এই ক্যামেরা ব্যবহারের ফলে গতিজনিত অপরাধ ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে।
তবে এই পদ্ধতির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। ফ্লোরিডার আইনজীবী টেড হল্যান্ডার দাবি করেছেন, ক্যামেরাগুলো শুধু স্কুল চলাকালীন সময়ে সক্রিয় না থেকে দিনের যেকোনো সময় জরিমানার জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে, যা এটিকে একটি অবৈধ করের মতো করে তুলেছে।
এদিকে সরকারি পর্যায়েও এই প্রযুক্তি নিয়ে ভিন্নমত দেখা দিয়েছে। গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল হাইওয়ে অ্যাডমিনিস্ট্রেশন তাদের ‘প্রুভেন সেফটি কাউন্টারমেজারস’ তালিকা থেকে স্পিড ক্যামেরাকে বাদ দিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের অগ্রাধিকারের সাথে সামঞ্জস্য রাখতেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে জানানো হয়।
অন্যদিকে ক্যালিফোর্নিয়ার প্রতিনিধি লরা ফ্রিডম্যানের মতো সমর্থকরা বলছেন, এই ক্যামেরাগুলো ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের একটি বড় মাধ্যম। ক্যালিফোর্নিয়ায় ক্যামেরা থেকে প্রাপ্ত অর্থ রাস্তাঘাট নিরাপদ করার কাজে ব্যয় করার নিয়ম রয়েছে। লস এঞ্জেলেসের মতো শহরেও বড় পরিসরে এই ক্যামেরা চালুর প্রস্তুতি চলছে, যা দ্রুতগতির চালকদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হতে যাচ্ছে।