পোল্যান্ডের গদানস্ক উপসাগরে দেশটির নৌবাহিনীর প্রথম বহুমুখী ফ্রিগেট ‘ওআরপি উইচার’ আনুষ্ঠানিকভাবে পানিতে ভাসানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট ক্যারল নাউরোস্কি এবং প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক উপস্থিত ছিলেন। দেশটির নৌবাহিনীর আধুনিকীকরণের জন্য মিজনিক কর্মসূচির আওতায় এটি প্রথম জাহাজ, যা পোল্যান্ডের প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে কয়েক ধাপ এগিয়ে নেবে বলে মনে করা হচ্ছে।
২০২১ সালে শুরু হওয়া এই কর্মসূচির গুরুত্ব তুলে ধরে প্রেসিডেন্ট নাউরোস্কি বলেন, পোল্যান্ডের নিজস্ব জাহাজ নির্মাণ শিল্পের জন্য এটি একটি মাইলফলক। তিনি আরও বলেন, বাল্টিক সাগরে রাশিয়ার উপস্থিতির কারণে পোল্যান্ডের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং অত্যাধুনিক সরঞ্জামের ব্যবহার অত্যন্ত জরুরি। এই ফ্রিগেটগুলো পুরোনো অলিভার হ্যাজার্ড পেরি-শ্রেণির জাহাজের স্থলাভিষিক্ত হবে এবং দেশটির সামুদ্রিক নিরাপত্তা রক্ষায় প্রধান ভূমিকা পালন করবে।
প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক জানান, প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারের এই প্রকল্প প্রযুক্তিগত উন্নয়নের পাশাপাশি দেশটিতে হাজার হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। তিনি বলেন, মিজনিক ফ্রিগেটগুলো পোল্যান্ডের নৌবাহিনীর মূল শক্তি হিসেবে কাজ করবে এবং সম্ভাব্য আগ্রাসন মোকাবিলায় বড় ভূমিকা রাখবে। এই প্রকল্পটির বাস্তবায়নে পোল্যান্ডের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের শক্তিশালী অংশীদারিত্ব রয়েছে।
এই ফ্রিগেটগুলোর দৈর্ঘ্য ৪৫৫ ফুট এবং পূর্ণ সশস্ত্র অবস্থায় এর ওজন প্রায় ৭,০০০ টন। জাহাজটি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৩২ মাইল গতিতে চলতে সক্ষম এবং দীর্ঘ ৮,০০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত পথ পাড়ি দিতে পারবে। এতে ১২০ জন নাবিক এবং অতিরিক্ত ৬০ জন বিশেষ অপারেশন বা হেলিকপ্টার ক্রু থাকার ব্যবস্থা রয়েছে।
জাহাজটিতে অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, অ্যান্টি-শিপ মিসাইল, সাবমেরিন বিধ্বংসী টর্পেডো এবং উন্নত রাডার প্রযুক্তি সংযুক্ত করা হয়েছে। ওআরপি উইচারের পাশাপাশি বর্তমানে ওআরপি বুরজা এবং ওআরপি হুরাগন নামে আরও দুটি ফ্রিগেটের নির্মাণকাজ চলছে। ২০২৯ সালের মধ্যে ওআরপি উইচার পোল্যান্ডের নৌবাহিনীতে পূর্ণাঙ্গভাবে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে এবং পুরো কর্মসূচির কাজ ২০৩১ সালের মধ্যে শেষ হবে।