যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডি.সিতে অবস্থিত ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব আমেরিকান হিস্ট্রির নেতৃত্ব পরিবর্তনের দাবি তুলেছেন আইনি বিশেষজ্ঞ কুলি স্টিমসন। তার মতে, জাদুঘরটি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসকে অত্যন্ত নেতিবাচক এবং আত্ম-অবমাননাকর দৃষ্টিভঙ্গি থেকে উপস্থাপন করছে। হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের এই জ্যেষ্ঠ আইনি ফেলো অভিযোগ করেছেন যে, জাদুঘরের প্রদর্শনীবস্তুগুলো ইতিহাসের স্বাভাবিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার বদলে একটি নির্দিষ্ট মতাদর্শ প্রচার করছে।
গত জুলাই মাসে হোয়াইট হাউসের একটি প্রতিবেদনে স্মিথসোনিয়ানের বিরুদ্ধে ডিইআই (বৈচিত্র্য, সমতা ও অন্তর্ভুক্তি) এবং বামপন্থী এজেন্ডা প্রচারের অভিযোগ ওঠে। এরপরই বিষয়টি নিয়ে কংগ্রেসের শুনানিতে জাদুঘরটির পরিচালক অ্যান্থিয়া হার্টিগের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা হয়। কুলি স্টিমসন মনে করেন, ওই শুনানির পরই হার্টিগের পদত্যাগ করা উচিত ছিল। তিনি দাবি করেন, জাদুঘরের প্রদর্শনীতে ইতিহাসকে শোষক বনাম শোষিতের লড়াই হিসেবে চিত্রিত করা হচ্ছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়।
কংগ্রেসের শুনানিতে আইনপ্রণেতারা জাদুঘর কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে ইতিহাসের নামে প্রদর্শনের অভিযোগ আনেন। জবাবে পরিচালক অ্যান্থিয়া হার্টিগ দাবি করেন, জাদুঘরটি নিরপেক্ষ এবং তারা কোনো রাজনৈতিক বিতর্কে জড়ায় না। তবে এই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছেন স্টিমসন। তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সময়ও জাদুঘরে এমন অনেক কিছু প্রদর্শন করা হয়েছে যা বিকৃত এবং অস্বস্তিকর।
স্টিমসন আরও বলেন, ইতিহাস মানেই দেশপ্রেমকে মুছে ফেলা বা শুধুই অন্ধকার দিকগুলো তুলে ধরা নয়। তার মতে, একটি জাতীয় জাদুঘরের কাজ হলো দেশের অর্জন এবং সংকট দুটিই সঠিকভাবে উপস্থাপন করা। তিনি অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান যাতে তারা সন্তানদের প্রকৃত ইতিহাস শেখানোর বিষয়ে সচেতন থাকেন। স্মিথসোনিয়ানের এই পুরো কাঠামোটি ঢেলে সাজানোর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। এ বিষয়ে স্মিথসোনিয়ান কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।