মালয়েশিয়ার ইউনিভার্সিটি অব মালায়ার গবেষকরা শরীরচর্চার ক্ষেত্রে চকলেটের সুগন্ধের ইতিবাচক প্রভাব খুঁজে পেয়েছেন। তাদের গবেষণায় দেখা গেছে, ব্যায়াম করার আগে এবং ব্যায়ামের সময় চকলেটের ঘ্রাণ নিলে কোনো বাড়তি ক্লান্তি ছাড়াই শরীরচর্চার সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। গবেষণার প্রধান লেখক ও ফ্যাকাল্টি অব স্পোর্টস অ্যান্ড এক্সারসাইজ সায়েন্সের সহকারী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নসরুদিন বিন নাহারুদিন জানান, শরীরচর্চায় মনোযোগ বাড়াতে এবং পারফরম্যান্সের উন্নয়নে এই ঘ্রাণ একটি মনস্তাত্ত্বিক উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে।
গবেষণায় বিশোর্ধ্ব ২৩ জন স্বাস্থ্যবান তরুণ অংশগ্রহণ করেন। তাদের তিনটি পৃথক দলে ভাগ করে ডার্ক চকলেট (৯০ শতাংশ কোকো), মিল্ক চকলেট (৬০ শতাংশ কোকো) এবং সাধারণ পানির ঘ্রাণ শুঁকিয়ে ব্যায়াম করানো হয়। এতে দেখা যায়, ডার্ক চকলেটের ঘ্রাণ নেওয়ার পর অংশগ্রহণকারীরা পানির তুলনায় প্রায় ১৮টি রেপস বেশি সম্পন্ন করতে পেরেছেন। অন্যদিকে, মিল্ক চকলেটের ক্ষেত্রে এই বাড়তি রেপসের সংখ্যা ছিল প্রায় নয়টি।
কেন এমনটি ঘটে তার ব্যাখ্যায় গবেষকরা জানিয়েছেন, আমাদের মস্তিষ্ক পরিচিত সুস্বাদু খাবারের গন্ধের সাথে তৃপ্তির একটি সম্পর্ক তৈরি করে নেয়। ডার্ক চকলেটের তীব্র ঘ্রাণ মস্তিষ্ককে এক ধরণের পূর্ণতার আভাস দেয়, যা ব্যায়ামের সময় ক্ষুধামন্দা তৈরি করে এবং পরিশ্রমের ধকল কমাতেও সহায়তা করে। ফলে ব্যায়ামের তীব্রতা না বাড়িয়েই দীর্ঘ সময় শরীরচর্চা করা সম্ভব হয়।
তবে এই ফলাফলের পেছনে থাকা সুনির্দিষ্ট জৈবিক প্রক্রিয়া নিয়ে এখনো গবেষণা প্রয়োজন। গবেষকদের মতে, এটি কেবল চকলেটের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ না-ও হতে পারে। অন্য কোনো প্রিয় খাবারের সুগন্ধও শরীরচর্চায় একই ধরনের উদ্দীপনা দিতে পারে কি না, তা নিয়ে আরও বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ রয়েছে।