কেনিয়ায় গাঁজা সেবনকে অপরাধের তালিকা থেকে মুক্ত করার আবেদন জানিয়ে করা একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলা খারিজ করে দিয়েছে আদালত। রস্তাফারি সম্প্রদায় দীর্ঘদিন ধরে তাদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে গাঁজার বৈধতা দাবি করে আসছিল, তবে দেশটির বিচার বিভাগ তাদের সেই আবেদন সরাসরি নাকচ করে দিল। এই রায় পূর্ব আফ্রিকার দেশটিতে মাদক সংক্রান্ত আইন এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
সংক্ষেপে যা জানা গেছে
- কেনিয়ার আদালত রস্তাফারি সম্প্রদায়ের করা গাঁজা বৈধকরণের আবেদনটি খারিজ করে দিয়েছে।
- রস্তাফারিরা গাঁজাকে তাদের ধর্মীয় উপাসনা ও আচারের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দাবি করে আসছিল।
- দেশটিতে রস্তাফারি ধর্ম আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত হলেও আদালতের এই সিদ্ধান্তে তাদের ধর্মীয় অধিকারের দাবিটি আইনত ধোপে টেকেনি।
- ২০২১ সাল থেকে এই মামলার আইনি লড়াই চলছিল, যা নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক কৌতূহল ছিল।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
কেনিয়ার রস্তাফারি সম্প্রদায় বহু বছর ধরে তাদের ধর্মীয় প্রথা রক্ষায় আইনি লড়াই চালিয়ে আসছিল। তাদের দাবি ছিল, গাঁজা সেবন তাদের আধ্যাত্মিক চর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং এটিকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা তাদের ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিপন্থী। এই যুক্তিতে ২০২১ সালে তারা আদালতে গাঁজা সেবনকে বৈধ করার আবেদন জানায়। কিন্তু দীর্ঘ শুনানি ও পর্যালোচনার পর কেনিয়ার আদালত আজ এই রায় প্রদান করে, যেখানে গাঁজার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার পক্ষেই অবস্থান নেওয়া হয়েছে।
আদালতের এই সিদ্ধান্ত কেনিয়ার রস্তাফারিদের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় আইনে গাঁজা সেবন ও বহন গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। রস্তাফারিরা যুক্তি দিয়েছিলেন যে, তারা যেহেতু একটি স্বীকৃত ধর্ম, তাই তাদের পবিত্র আচারে ব্যবহারের জন্য গাঁজার ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা উচিত। তবে আদালত সম্ভবত জনস্বাস্থ্য ও প্রচলিত মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনের ওপর ভিত্তি করে তাদের আবেদনটি খারিজ করে দিয়েছে।
বিশ্লেষণ
কেনিয়ার আদালতের এই রায় একটি জটিল সামাজিক ও আইনি বাস্তবতাকে সামনে এনেছে। একদিকে রস্তাফারি সম্প্রদায়ের ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার এবং অন্যদিকে রাষ্ট্রের মাদকবিরোধী কঠোর অবস্থান—এই দুইয়ের মধ্যে দ্বন্দ্ব এই মামলার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল। যদিও কেনিয়াতে রস্তাফারি ধর্ম আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত, কিন্তু আইন প্রণেতারা মনে করেন যে গাঁজার বৈধতা দিলে তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে এবং তরুণ প্রজন্মের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই রায় কেনিয়ার বিদ্যমান মাদক আইনের অটলতাকে নির্দেশ করে। তবে এটি রস্তাফারি সম্প্রদায়ের জন্য একটি দীর্ঘস্থায়ী আইনি ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে থেকে যাবে। যদিও এই মামলাটিতে তারা হেরেছে, কিন্তু ভবিষ্যতে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মাদকদ্রব্যের ব্যবহারের মধ্যকার পার্থক্য নিয়ে আইনি বিতর্ক যে আরও বাড়বে, তা নিশ্চিত করেই বলা যায়।
সূত্র: france24.com