রাশিয়ার মস্কো এবং তামভ অঞ্চলে অবস্থিত দেশটির বৃহত্তম অনলাইন রিটেইল কোম্পানি ওয়াল্ডবেরিজের (Wildberries) গুদামে ভয়াবহ ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। এই হামলার ফলে রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক নেটওয়ার্ক বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে এবং বেশ কয়েকজন হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের দাবি, এই কেন্দ্রগুলো থেকে রুশ সামরিক বাহিনীর জন্য নিষিদ্ধ প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম সরবরাহ করা হচ্ছিল।
সংক্ষেপে যা জানা গেছে
- মস্কোর অদূরে এবং তামভ অঞ্চলে অবস্থিত ওয়াল্ডবেরিজের প্রধান লজিস্টিক কেন্দ্রগুলোতে ইউক্রেনীয় ড্রোন আঘাত হানে।
- ইউক্রেনের পক্ষ থেকে এই হামলাকে তাদের সামরিক কৌশলের অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
- হামলায় বেশ কয়েকজন নিহত ও আহত হয়েছেন বলে রাশিয়ার স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।
- ইউক্রেনীয় নেতৃত্ব জানিয়েছে, এই গুদামগুলো রাশিয়ার যুদ্ধ প্রচেষ্টায় প্রয়োজনীয় বিভিন্ন নিষিদ্ধ যন্ত্রাংশ সরবরাহ ও সংরক্ষণের কাজে ব্যবহৃত হতো।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
রাশিয়ার খুচরা বাণিজ্যের অন্যতম স্তম্ভ ওয়াল্ডবেরিজের লজিস্টিক হাবগুলোতে আকস্মিক ড্রোন হামলা রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার দুর্বলতাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। স্থানীয় সময় ভোরে চালানো এই হামলায় গুদামগুলোতে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়, যা নিয়ন্ত্রণে দমকল বাহিনীর কর্মীদের হিমশিম খেতে হয়। রাশিয়ার জরুরি সেবা বিভাগ জানিয়েছে, হামলার পর আকাশপথে হামলার সতর্কবার্তা জারি করা হয় এবং বেশ কিছু ড্রোনকে ধ্বংস করার দাবি করা হয়েছে। তবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার ফলে অবকাঠামোগত ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সরাসরি এই হামলার দায় স্বীকার করে জানিয়েছেন যে, এটি কোনো সাধারণ বাণিজ্যিক স্থাপনায় হামলা নয়। তার ভাষ্যমতে, এই কেন্দ্রগুলো রাশিয়ান বাহিনীর লজিস্টিক সাপ্লাই চেইনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল। ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বলা হয়েছে, রাশিয়ার সামরিক সক্ষমতা সচল রাখতে প্রয়োজনীয় ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম ও অন্যান্য নিষিদ্ধ লজিস্টিক উপকরণ এই গুদামগুলো থেকে পাঠানো হচ্ছিল।
বিশ্লেষণ
এই হামলাটি ইউক্রেনের সামরিক কৌশলের একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। যুদ্ধের শুরু থেকে ইউক্রেন মূলত সম্মুখ সমরে মনোযোগ দিলেও, বর্তমানে তারা রাশিয়ার ভূখণ্ডের গভীরে গিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও লজিস্টিক অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করছে। এর মাধ্যমে কিয়েভ মূলত দুটি বার্তা দিতে চায়। প্রথমত, রাশিয়ার কোনো এলাকাই ড্রোন হামলার আওতার বাইরে নয়, তা যতই সুরক্ষিত হোক না কেন। দ্বিতীয়ত, যুদ্ধের রসদ সরবরাহে বাধার সৃষ্টি করে ফ্রন্টলাইনে থাকা রুশ বাহিনীর কার্যকারিতা কমিয়ে আনা।
তবে এই হামলার রাজনৈতিক প্রভাবও কম নয়। ওয়াল্ডবেরিজ রাশিয়ার সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কেনাকাটার প্রধান মাধ্যম হওয়ায় এ ধরনের আক্রমণ রাশিয়ার জনগণের মধ্যে যুদ্ধের প্রভাব সরাসরি পৌঁছে দিচ্ছে। অর্থনৈতিকভাবে রাশিয়ার সাপ্লাই চেইন ব্যাহত করা ইউক্রেনের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ, যা দেশটির যুদ্ধের অর্থায়নে এবং সরঞ্জাম প্রাপ্তিতে বড় ধরনের সংকটের জন্ম দিতে পারে। আসন্ন দিনগুলোতে রাশিয়া কীভাবে এর জবাব দেয় এবং তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও কতটা জোরদার করে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
সূত্র: bbc.co.uk