জর্ডানে ড্রোন হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহতের ঘটনার প্রতিশোধ নিতে ইরান সমর্থিত রেভল্যুশনারি গার্ডের (আইআরজিসি) বিভিন্ন স্থাপনায় বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই সামরিক পদক্ষেপের পাশাপাশি কুয়েত ও বাহরাইনে ইরানের পক্ষ থেকে নতুন করে হামলার খবর পাওয়া গেছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলেছে।
সংক্ষেপে যা জানা গেছে
- জর্ডানে ড্রোন হামলায় দুই মার্কিন সেনার মৃত্যুর ঘটনার বদলা নিতে ইরান সমর্থিত আইআরজিসি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
- যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় কুয়েত এবং বাহরাইনের বিভিন্ন স্থানে ইরান নতুন করে আক্রমণাত্মক তৎপরতা শুরু করেছে।
- এই ঘটনাপ্রবাহ আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে চরম হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে এবং ওয়াশিংটন-তেহরান সরাসরি সংঘাতের আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে।
- অপারেশনের মাধ্যমে ইরান ও এর মদদপুষ্ট গোষ্ঠীগুলোকে কঠোর বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছে মার্কিন প্রশাসন।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ভয়াবহ ড্রোন হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিনের নীরবতার পর এই হামলার কঠোর জবাব দিয়েছে পেন্টাগন। মার্কিন বাহিনী ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসি-র বিভিন্ন কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে আকাশপথে আঘাত হেনেছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের দাবি, এই হামলা ছিল পূর্বপরিকল্পিত এবং এর মূল উদ্দেশ্য ছিল ইরানকে তাদের কর্মকাণ্ডের ভয়াবহতা সম্পর্কে সতর্ক করা।
তবে হামলার প্রতিক্রিয়ায় পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার পরিবর্তে আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, ইরানের পক্ষ থেকে কুয়েত এবং বাহরাইনে নতুন করে হামলা চালানো হয়েছে। এই অঞ্চলগুলোতে মার্কিন মিত্র এবং সামরিক ঘাঁটির অবস্থান রয়েছে, যা এখন সরাসরি হুমকির মুখে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আইআরজিসি সরাসরি সংঘাতের বদলে প্রক্সি বাহিনীর মাধ্যমে এই পাল্টা আক্রমণ পরিচালনা করছে যাতে তারা মার্কিন বাহিনীকে প্রতিটি ফ্রন্টে ব্যতিব্যস্ত রাখতে পারে।
বিশ্লেষণ
বর্তমান প্রেক্ষাপটে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন মোড় তৈরি করেছে। এতদিন যে ছায়াযুদ্ধ বা প্রক্সি ওয়ার চলছিল, তা এখন সরাসরি সংঘর্ষের দিকে ধাবিত হচ্ছে। জর্ডানে দুই মার্কিন সেনার মৃত্যু বাইডেন প্রশাসনের জন্য একটি বড় ধরনের রাজনৈতিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, তাই অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক মহলে নিজেদের শক্ত অবস্থান জানান দিতে এই সামরিক অভিযান অনিবার্য ছিল।
অন্যদিকে, কুয়েত ও বাহরাইনে ইরানের নতুন এই তৎপরতা প্রমাণ করে যে, তেহরান পশ্চিমাদের চাপের কাছে নতি স্বীকার করতে রাজি নয়। এই পরিস্থিতি যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিতিশীলতা দেখা দিতে পারে। ওয়াশিংটন এবং তেহরান উভয়েই এখন এমন একটি সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে যেখানে সামান্য ভুল পদক্ষেপ একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধের সূচনা ঘটাতে পারে। আগামী দিনগুলোতে কূটনৈতিক আলোচনার চেয়ে সামরিক শক্তির মহড়া এই অঞ্চলে আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সূত্র: aljazeera.com