মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনার পারদ চড়ার মধ্যে জর্ডানে মার্কিন সেনাসদস্যদের মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে ওয়াশিংটন। ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে দমনে এবং তেহরানকে কঠোর বার্তা দিতে রোববার বড় ধরনের বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।
- জর্ডানে ড্রোন হামলায় তিন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হওয়ার ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় এই হামলা চালানো হয়েছে।
- যুক্তরাষ্ট্র এই অভিযানকে ইরানকে শাস্তিদানের প্রক্রিয়া হিসেবে বর্ণনা করেছে।
- নতুন করে সংঘাত বৃদ্ধির আশঙ্কার মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এই অভিযানের নির্দেশ দেন।
- ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর ব্যবহৃত একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে এই বিমান হামলা পরিচালনা করা হয়েছে।
- এটি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার নতুন একটি বিপজ্জনক পর্যায়।
জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনীর উপস্থিতি নতুন করে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। গত কয়েক মাসে হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ অঞ্চলে ইরান সমর্থিত বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় মার্কিন সেনাদের মৃত্যু ও আহতের ঘটনা ঘটছিল। তবে এবারই প্রথমবারের মতো মার্কিন সেনাদের প্রাণহানির ঘটনা ঘটল, যা ওয়াশিংটনকে কঠোর সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণে বাধ্য করেছে।
মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রোববার চালানো এই বিমান হামলাগুলো নিছক আত্মরক্ষা নয়, বরং এটি একটি সুপরিকল্পিত শাস্তিমূলক পদক্ষেপ। হোয়াইট হাউসের ভাষ্যমতে, তেহরানের প্ররোচণায় পরিচালিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে দুর্বল করতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। পেন্টাগন নিশ্চিত করেছে যে, ইরাক ও সিরিয়ার সীমান্তে অবস্থিত বিভিন্ন স্থাপনায় নির্ভুল নিশানায় বোমা হামলা চালানো হয়েছে, যা সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলোর সক্ষমতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেবে।
বিশ্লেষণ
এই ঘটনা কেবল একটি সামরিক প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নয়, বরং এটি বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতির এক জটিল মোড়। একদিকে বাইডেন প্রশাসন চাইছে না মধ্যপ্রাচ্যে সরাসরি ইরানের সাথে বড় কোনো যুদ্ধ শুরু হোক, অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ চাপের কারণে মার্কিন সেনাদের ওপর হামলার জবাব না দিয়েও থাকা সম্ভব নয়। এই দ্বিমুখী অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্র এখন এক সংকটে।
বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন এই হামলা তেহরানকে সরাসরি চাপে ফেলার একটি কৌশল। তবে ইরান যদি পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখায় বা তাদের অনুগত গোষ্ঠীগুলো নতুন করে হামলা চালায়, তবে পুরো অঞ্চলটি একটি দীর্ঘমেয়াদী আঞ্চলিক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। একদিকে নির্বাচনের আগে বাইডেন প্রশাসনের জন্য এটি একটি অগ্নিপরীক্ষা, অন্যদিকে ইরানের জন্য এটি তাদের আঞ্চলিক প্রভাব ও সামরিক সক্ষমতার শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের লড়াই। সব মিলিয়ে, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে এখন একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
সূত্র: rfi.fr