মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। টানা সাত রাত ধরে মার্কিন বাহিনীর ধারাবাহিক বিমান হামলার জবাবে শনিবার পারস্য উপসাগরে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরান। এই ঘটনা পুরো অঞ্চলটিকে একটি পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে।
সংক্ষেপে যা জানা গেছে
- টানা সাত দিন ধরে ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় মার্কিন বিমান বাহিনীর হামলা অব্যাহত রয়েছে।
- শনিবারের পাল্টা হামলায় ইরান পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করেছে।
- ইরান সরাসরি হুশিয়ারি দিয়ে বলেছে, এসব আগ্রাসন বন্ধ না হলে তারা পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান পরিচালনা করবে।
- দুই শক্তির মধ্যকার এই নতুন সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে অত্যন্ত নাজুক করে তুলেছে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার ছায়াযুদ্ধ এখন সরাসরি সামরিক সংঘাতের রূপ নিয়েছে। গত সাত দিন ধরে মার্কিন বাহিনী ইরানের ভূখণ্ডে এবং দেশটির মদদপুষ্ট বিভিন্ন গোষ্ঠীর লক্ষ্যবস্তুতে ধারাবাহিক বিমান হামলা চালিয়ে আসছে। ওয়াশিংটনের দাবি, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং মিত্রদের সুরক্ষার স্বার্থেই এই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এর প্রতিক্রিয়ায় শনিবার ইরান পাল্টা আঘাত হেনেছে। তেহরান জানিয়েছে, তারা উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অবকাঠামো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ইরানের নীতিনির্ধারকরা এক কঠোর বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, মার্কিন বাহিনীর এই ধারাবাহিক হামলার জবাব দিতে তারা প্রস্তুত। তারা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, যদি এই উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ না করা হয়, তবে ইরান তাদের পূর্ণ সামরিক শক্তি ব্যবহার করে একটি সর্বাত্মক বা ‘ফুল-স্কেল’ offensive বা অভিযান শুরু করবে।
এই ঘটনায় পুরো আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের প্রধান রুট হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালী ও এর আশেপাশের এলাকায় উত্তেজনা যেকোনো সময় বড় ধরনের বিশ্বসংকট তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষণ
দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজমান থাকলেও সাম্প্রতিক এই সংঘাত পরিস্থিতির চরম অবনতি নির্দেশ করছে। বাইডেন প্রশাসনের জন্য এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ, কারণ মধ্যপ্রাচ্যে কোনো বড় যুদ্ধের ঝুঁকি নেওয়া তাদের বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক কৌশলের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। অন্যদিকে, ইরানের জন্য এই হামলা নিজের আঞ্চলিক আধিপত্য বজায় রাখার এবং অভ্যন্তরীণ জাতীয়তাবাদী আবেগকে তুষ্ট করার একটি কৌশল হতে পারে।
এই সংঘাতের বড় প্রভাব পড়বে বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি তেলের বাজারে। উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক উত্তাপ বাড়লে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। এছাড়া, ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সংকট কেবল দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং রাশিয়া বা চীনের মতো শক্তিগুলোও তাদের নিজস্ব কৌশল নিয়ে এই অস্থিরতাকে ব্যবহার করার চেষ্টা করবে। যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের সামরিক অবস্থান থেকে পিছু না হটে এবং ইরান যদি পাল্টা হামলা অব্যাহত রাখে, তবে মধ্যপ্রাচ্য এক ভয়াবহ মানবিক ও সামরিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে পারে।
সূত্র: rfi.fr