ভারতের নয়াদিল্লিতে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে শিক্ষার্থীরা এই বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় সৃষ্ট এই ক্ষোভকে বর্তমান সরকারের জন্য ২০১৪ সালের পর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আন্দোলন ও সংঘর্ষের পরিস্থিতি
নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে বুধবার গভীর রাতে জড়ো হওয়া শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে এবং লাঠিপেটা করে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে ১০ হাজারের বেশি মানুষ উপস্থিত হয়েছেন। বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ও প্লাস্টিকের বোতল ছুড়েছে বলে দিল্লি পুলিশ দাবি করেছে, যার ফলে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
নিরাপত্তার খাতিরে দিল্লি মেট্রোরেল কর্পোরেশন আজ বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লি ও এর আশপাশের ১৬টি স্টেশন পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীসহ বিরোধী দলগুলো এই আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে। বিরোধী নেতারা সংসদে বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনেও কর্মসূচি পালন করেছেন। সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে জানিয়েছেন, ২৫ দিন পার হলেও তাঁরা পিছু হটবেন না।
সরকারের ভূমিকা
মোদি সরকার সিজেপি নেতাদের সঙ্গে এক দফা আলোচনা করেছে এবং পরীক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের আশ্বাস দিয়েছে। তবে বিরোধীদের দাবি, অতীতে এ ধরনের ঘটনার পর সরকার কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। চলতি বছরের নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ার পর তরুণ ভোটারদের এই ক্ষোভ এখন বিজেপি সরকারের জন্য বড় রাজনৈতিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।