বাংলাদেশের চট্টগ্রামের পাঁচটি জেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত পুনরুদ্ধারে জরুরি সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে সরকার। ১৬ জুলাই ২০২৬, বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কৃষিমন্ত্রী এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ এই তথ্য জানান। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তার মাধ্যমে দ্রুত উৎপাদন ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে এই উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ক্ষয়ক্ষতির চিত্র
প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, বন্যায় এই পাঁচ জেলায় মৎস্য খাতে ২ বিলিয়ন টাকা এবং প্রাণিসম্পদ খাতে ৭৭ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, বন্যায় বীজতলা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার পরিপ্রেক্ষিতে কৃষকদের সহায়তায় ৩২৭ মেট্রিক টন ধান বীজের চাহিদা তৈরি হয়েছে।
কৃষি ও বীজ সহায়তা
সরকারের কাছে পর্যাপ্ত বীজের মজুদ রয়েছে। যেসব কৃষকের জমি এখনই চাষাবাদের উপযোগী, তাদের দ্রুত বীজ দেওয়া হবে। এছাড়া যেসব জমি এখনও চাষের অনুপযুক্ত, সেখানে সরকারি খালি জমিতে জরুরি বীজতলা তৈরি করা হচ্ছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এসব বীজতলা থেকে ধানের চারা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হবে।
প্রাণিসম্পদ সুরক্ষা ও খাদ্য সহায়তা
বন্যার পর গবাদি পশুর মুখে ও পায়ে ক্ষুরারোগের (এফএমডি) ঝুঁকি বেড়ে যায়। এটি মোকাবিলায় পাঁচটি জেলার ১ লাখ ৫১ হাজার ৫৯৯টি গবাদি পশুকে টিকাদানের আওতায় আনা হচ্ছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এই কর্মসূচি শেষ হবে। এছাড়া বন্যায় গোখাদ্য ধ্বংস হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ৩৫ লাখ টাকার গোখাদ্য বরাদ্দ করা হয়েছে, যা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলাগুলোতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিতরণ করা হবে।
তদারকি ও বাস্তবায়ন
ইউনিয়ন পর্যায় থেকে ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোকে সহায়তা প্রদানে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। সংবাদ সম্মেলনে বিভাগীয় কমিশনার ডা. মো. জিয়াউদ্দিন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবদুর রহিম, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিয়াসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।