ঢাকাSaturday , 1 August 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন ও বিচার
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. খেলা
  6. খেলাধুলা
  7. চাকরি
  8. জাতীয়
  9. ধর্মীয় সম্প্রীতি
  10. পরিবেশ ও কৃষি
  11. প্রযুক্তি
  12. বিনোদন
  13. বিশেষ প্রতিবেদন
  14. বিশ্ব
  15. ভিডিও
আজকের সর্বশেষ সব খবর

যুক্তরাজ্যে ইসলামি নিকাহকে আইনি স্বীকৃতি দিতে বিবাহ আইন সংস্কারের পথে


July 31, 2026 11:45 pm
Link Copied!

যুক্তরাজ্যে বিচার বিভাগীয় মন্ত্রণালয়ের একটি প্রস্তাবনায় ইসলামি নিকাহকে আলাদা সিভিল রেজিস্ট্রি ছাড়াই আইনি স্বীকৃতি দেওয়ার ব্যবস্থা আনার পথে দেশটি দাঁড়িয়েছে, মন্ত্রণালয় ও ধর্মীয় ও আইনি বিশ্লেষকদের উল্লেখ করা হচ্ছে। এই পরিবর্তন বাস্তবায়িত হলে ব্রিটেনের মুসলিম দম্পতিদের জন্য একবারই বিবাহ সম্পন্ন করলেই পর্যাপ্ত আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত হবে—এটাই মূল গুরুত্ব।

বর্তমানে ওই প্রস্তাবনার ওপর সরকারি পরামর্শ শোনা হচ্ছে এবং পরামর্শ প্রক্রিয়া চলবে ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রাপ্ত মতামত বিশ্লেষণের পরে তারা পার্লামেন্টে একটি সমন্বিত ম্যারেজ বিল পেশ করবে।

নতুন কাঠামোর প্রধান ধারণা হলো ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে বিয়ের বৈধতা নির্ধারণ করা হবে কোনো বিশেষ ভবনের নয়, বরং সরকারের নিবন্ধিত কাজী বা অফিসিয়েন্টের মাধ্যমে। ফলে ঐতিহ্যবাহী ইসলামিক ইজাব-কবুলের মতো প্রক্রিয়াগুলোই সিভিল আইনে বৈধ সম্মতি হিসেবে গণ্য হবে। তবে বিয়ের আগে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক আইনি নোটিশ প্রদানের ও নিবন্ধনের বাধ্যবাধকতা থাকবে।

বর্তমান বাস্তবতা অনুযায়ী যুক্তরাজ্যে বসবাসরত মুসলিম দম্পতিদের মধ্যে চারজনের মধ্যে প্রায় একজন কেবল ঐতিহ্যবাহী নিকাহ করেছেন, যা সিভিল আইনে স্বীকৃত নয়। কোর্ট অব আপিলের ‘আখতার বনাম খান’ মামলার সিদ্ধান্তে এমন অনিবন্ধিত অনুষ্ঠানের সর্বাধিকারিক স্বীকৃতি নেই; আইনগতভাবে এগুলোকে ‘নন-কোয়ালিফাইং সেরিমনি’ বলা হয়েছে। ফলে দাম্পত্য বিরোধে প্রায় ৩০ শতাংশ মানুষ, বিশেষ করে নারী, খোরপোশ, সম্পত্তি ও আর্থিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কমিউনিটি সহ বহু পরিবার এই আইনি জটিলতার শিকার।

আইন পরিবর্তনের ক্ষেত্রে নিবন্ধিত কাজী বা অফিসিয়েন্টদের ওপর নতুন কিছু দায়িত্ব আরোপ করা হবে। বিয়ের আগে বর ও কনের স্বাধীন সম্মতি যাচাই করা, আইনি বয়স নিশ্চিত করা এবং জোরপূর্বক বা ভুয়া বিয়ের সন্দেহ থাকলে তা কর্তৃপক্ষকে জানানো তাদের বাধ্যবাধকতা থাকবে।

এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন কিছু ইসলামিক স্কলার ও আইনি বিশেষজ্ঞ। ইসলামিক আইনি গবেষক শায়খ মোহাম্মদ আহমেদ বলেন, কয়েক দশক ধরে বিশেষত মুসলিম নারীরা আইনি অস্পষ্টতার কারণে সুরক্ষাহীন ছিলেন; নিকাহকে জাতীয় আইনি কাঠামোর অংশ করলে ধর্মীয় নিয়ম অক্ষুণ্ণ রাখা সম্ভব হবে এবং একই সঙ্গে ব্রিটিশ মুসলিম পরিবারের আইনি অধিকার নিশ্চিত হবে।

পরামর্শ প্রক্রিয়া শেষ হলে প্রাপ্ত মতামত বিশ্লেষণ করে বিচার বিভাগীয় মন্ত্রণালয় একটি চূড়ান্ত বিল প্রণয়ন করবে, যা পার্লামেন্টে পাস হলে ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়গুলোকে আর দুইবার (ধর্মীয় ও সিভিল) করে বিয়ে করার ঝামেলা সহ্য করতে হবে না।