যুক্তরাজ্যের লন্ডনে চোখের নিচের অংশের সৌন্দর্যচর্চা ও এর যত্ন নিয়ে একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। চোখের নিচের গর্ত বা কোটরের সমস্যা সমাধানে ফিলার ব্যবহারের বিকল্প হিসেবে কার্যকর কিছু আই ক্রিমের তালিকা প্রকাশ করেছেন সৌন্দর্যবিষয়ক সাংবাদিক নেসা হুমায়ুন। কনসালট্যান্ট ডার্মাটোলজিস্ট ড. জয়নব লাফতাহের মতে, চোখের নিচের এই সমস্যা দূর করতে প্রসাধনী সামগ্রী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
কেন এমনটা হয়
ড. লাফতাহ জানান, চোখের নিচের গর্ত বা কোটর মূলত জেনেটিক কারণ, হাড়ের গঠন এবং বয়স বাড়ার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার ফলে তৈরি হয়। বয়স বাড়ার সাথে সাথে চোখের কোটরের চারপাশের হাড়ের গঠন পরিবর্তিত হয় এবং চামড়ার নিচের ফ্যাট বা চর্বি সরে যেতে থাকে। এছাড়া কোলাজেন ও ইলাস্টিনের মাত্রা কমে যাওয়ায় ত্বক পাতলা হয়ে যায়, যার ফলে চোখের নিচে গর্ত বা কালো দাগ আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
প্রসাধনীর সীমাবদ্ধতা ও কার্যকারিতা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চোখের নিচের গভীর হাড়ের গঠন বা চর্বির স্থানচ্যুতি সরাসরি প্রসাধনী দিয়ে ঠিক করা সম্ভব নয়। তবে রেটিনয়েডযুক্ত ক্রিম কোলাজেন উৎপাদন বাড়িয়ে ত্বকের সূক্ষ্ম রেখা ও গঠন উন্নত করতে সাহায্য করে। এছাড়া ভিটামিন সি সূর্যের আলো থেকে হওয়া ক্ষতি কমাতে সহায়ক। ত্বকের সংবেদনশীলতার কথা বিবেচনা করে সুগন্ধিমুক্ত এবং মৃদু ফর্মুলার ক্রিম ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
সেরা পণ্যসমূহ
প্রতিবেদনে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সেরা কয়েকটি আই ক্রিমের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে সামগ্রিকভাবে ‘মেডিক৮ ক্রিস্টাল রেটিনাল সেরামাইড আই ৩’ এবং সাশ্রয়ী হিসেবে ‘লোরিয়াল প্যারিস রিভাইটালাইফ ফিলার রিনিউ আই ক্রিম’ বেশ কার্যকর। এছাড়া লা প্রাইরি, ক্লারিন্স এবং শিসেইডোর মতো ব্র্যান্ডের পণ্যগুলোকেও তাদের কার্যকারিতার ভিত্তিতে সেরা হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
পরামর্শ
চিকিৎসকরা মনে করেন, চোখের নিচের সমস্যার তীব্রতা ভেদে চিকিৎসার ধরণ ভিন্ন হওয়া উচিত। কারো ক্ষেত্রে ফিলার বা চোখের সার্জারি প্রয়োজনীয় হতে পারে, তবে যারা অস্ত্রোপচার বা ইনজেকশন নিতে অনাগ্রহী, তাদের জন্য বিশেষজ্ঞ অনুমোদিত এই ক্রিমগুলো নিয়মিত ব্যবহারে ত্বকের টানটান ভাব ফিরে পেতে সহায়তা করবে।