যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) ৫০ বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্য মডার্নার নতুন এমআরএনএ-ভিত্তিক ফ্লু টিকা ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে। এমআরএনএ প্রযুক্তিতে তৈরি এটিই প্রথম ফ্লু টিকা, যা ২০২৬-২০২৭ মৌসুমের শ্বাসতন্ত্রের ভাইরাসের সংক্রমণের আগে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বাজারে আসবে। মডার্নার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্টিফান বানসেল এই অনুমোদনকে এমআরএনএ প্ল্যাটফর্মের সক্ষমতা ও জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
টিকাটির কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা যাচাইয়ে ৪০ হাজারেরও বেশি মানুষের ওপর গবেষণা চালিয়েছে মডার্না। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রচলিত ফ্লু টিকার চেয়ে এই এমআরএনএ টিকা শক্তিশালী সুরক্ষা প্রদান করে।
পটভূমি
কোভিড-১৯ টিকার সাফল্যের পর এমআরএনএ প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার শুরু হলেও বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে এই প্রযুক্তির বিষয়ে নানা বিতর্ক দেখা দেয়। স্বাস্থ্য ও মানবসেবা সচিব রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়র দীর্ঘদিন ধরেই টিকার কট্টর সমালোচক হিসেবে পরিচিত। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এমআরএনএ গবেষণা খাতের অর্থায়ন কমানো এবং এই টিকার সুযোগ সীমিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্প ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের চাপের মুখে এফডিএ এই নতুন ফ্লু টিকার পর্যালোচনায় সম্মত হয়। পরবর্তীতে একটি স্বাধীন উপদেষ্টা প্যানেল সর্বসম্মতভাবে টিকাটি অনুমোদনের সুপারিশ করে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ
বিশেষজ্ঞদের মতে, এমআরএনএ প্রযুক্তি ব্যবহার করায় এই টিকা খুব দ্রুত উৎপাদন ও আপডেট করা সম্ভব। এটি ফ্লু ভাইরাসের নতুন স্ট্রেন বা কোনো মহামারি মোকাবিলায় দ্রুত সাড়া দিতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ মাইকেল অস্টারহোম বিষয়টিকে ইনফ্লুয়েঞ্জা টিকা প্রযুক্তির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
তবে এই অনুমোদনের সমালোচনাও রয়েছে। চিলড্রেনস হেলথ ডিফেন্সের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা ড. ব্রায়ান হুকার মনে করেন, এই প্রযুক্তির দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব সম্পর্কে এখনো পর্যাপ্ত গবেষণা হয়নি এবং বিষয়টি নিয়ে আরও সতর্ক থাকা প্রয়োজন ছিল।