বাংলাদেশের কক্সবাজারে পরিবহন খাত ঘিরে চলছে এক ভয়াবহ চাঁদাবাজির সিন্ডিকেট। ট্রাফিক পুলিশের নাম ভাঙিয়ে শুধুমাত্র সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে প্রতি মাসে ২০ লাখ টাকার বেশি তোলা হচ্ছে। এছাড়াও অন্যান্য তিন চাকার যান, মিনিবাস এবং রেজিস্ট্রেশনবিহীন গণপরিবহন থেকে আদায় করা হচ্ছে আরও ১০ লাখ টাকা। এই অবৈধ বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িতদের দাবি, সংগৃহীত এই অর্থের বড় একটি অংশ ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের দিতে হয়।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কক্সবাজার শহরের দেবানল পাল ওরফে নিউটন, বাহারছড়ার শাহাজান এবং খুরুশকুলের সাহাব উদ্দিনের নেতৃত্বে একটি চক্র এই চাঁদা সংগ্রহ করছে। তারা প্রতিটি গাড়ি থেকে ‘লাইন খরচ’ বাবদ টাকা তোলে, যা ট্রাফিক পুলিশের টিএসআই ফরহাদের মাধ্যমে অন্তত ২০ জন ট্রাফিক সদস্যের মধ্যে বিতরণ করা হয়।
শহরের বাস টার্মিনাল ও প্রধান সড়ককেন্দ্রিক ভোলাবাবুর পেট্রোল পাম্প এলাকায় অবৈধ পার্কিং স্টেশন বসিয়ে মোহাম্মদ বেলাল নামের এক ব্যক্তি গাড়িপ্রতি প্রতিদিন ৪০ টাকা হারে চাঁদা আদায় করছেন। এই চাঁদা না দিলে রাস্তায় গাড়ি চালানো অসম্ভব হয়ে পড়ে। অভিযুক্ত নিউটন ও বেলাল সরাসরি চাঁদাবাজির বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তাদের ভাষ্যমতে, পুলিশকে ‘ম্যানেজ’ করতেই এই টাকা তোলা হয়।
ভুক্তভোগী চালক ও মালিকদের দাবি, ট্রাফিক পুলিশের টিআই, সার্জেন্ট ও টিএসআইদের নিয়মিত মাসোহারা দিতে হয়। পুলিশের নির্দিষ্ট তালিকা অনুযায়ী, ৩০ হাজার থেকে শুরু করে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের মাসিক ‘ফি’ হিসেবে দেওয়া হয়। বিনিময়ে লাইসেন্স বা ফিটনেসবিহীন গাড়িগুলো চেকপোস্টে আটকা পড়লে ফোন কলেই ছেড়ে দেওয়া হয়।
চাঁদাবাজির এই অভিযোগ প্রসঙ্গে কক্সবাজার ট্রাফিক পুলিশের টিএসআই ফরহাদ বলেন, পরিস্থিতির চাপে বাধ্য হয়েই তিনি এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। তবে কক্সবাজার ট্রাফিক পুলিশের টিআই (অ্যাডমিন) মো. খসরু পারভেজ দাবি করেছেন, বিষয়টি তার জানা নেই। অন্যদিকে, কক্সবাজার জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) দেবদূত মজুমদার জানিয়েছেন, সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।