যুক্তরাষ্ট্রের ভিডিও গেম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রকস্টার গেমস তাদের নতুন গেম গ্র্যান্ড থেফট অটো ৬ (জিটিএ ৬) তৈরিতে ১ বিলিয়ন থেকে ১.৫ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত খরচ করতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। হলিউডের বড় বাজেটের সিনেমার চেয়েও বেশি অর্থ ব্যয়ে নির্মিত এই গেমটি ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল বিনোদন পণ্যের তালিকায় শীর্ষস্থান দখল করতে যাচ্ছে।
গেমটির নির্মাণ ব্যয় বৃদ্ধির কারণ হিসেবে দীর্ঘ উৎপাদন সময় এবং জটিল প্রক্রিয়াকে দায়ী করা হচ্ছে। সাধারণত বড় বাজেটের সিনেমাগুলো কয়েক বছরে তৈরি হলেও, জিটিএ ৬ প্রায় এক দশকের বেশি সময় ধরে উন্নয়নের পর্যায়ে রয়েছে। গেমটিতে কাজ করছেন লেখক, প্রোগ্রামার, অ্যানিমেটর ও ডিজাইনারদের বিশাল এক দল।
এর আগে সনি ইন্টারঅ্যাক্টিভ এন্টারটেইনমেন্টের হরাইজন ফরবিডেন ওয়েস্ট এবং দ্য লাস্ট অব আস: পার্ট টু তৈরিতে ২০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি খরচ হয়েছিল। এছাড়া অ্যাক্টিভিশনের কল অব ডিউটি: ব্ল্যাক অপস কোল্ড ওয়ারের লাইফসাইকেল খরচ ৭০০ মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছিল। জিটিএ ৬ সেই রেকর্ডও অতিক্রম করতে যাচ্ছে।
রকস্টারের এই বিপুল বিনিয়োগের পেছনে মূল কারণ হলো এর দীর্ঘমেয়াদী মুনাফার সম্ভাবনা। ২০১৩ সালে মুক্তি পাওয়া জিটিএ ৫ গেমটি প্রকাশের প্রথম দিনেই ৮০০ মিলিয়ন ডলার আয় করেছিল এবং বর্তমানে এর মোট আয়ের পরিমাণ প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার। জিটিএ ৬-এর সিঙ্গেল-প্লেয়ার সংস্করণের পাশাপাশি অনলাইন মোড থেকেও কোম্পানিটি পরবর্তী এক দশক আয়ের আশা করছে।
গেমটির নির্মাণে জটিলতা এবং সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ফিচার যোগ করার প্রবণতা (ফিচার ক্রিপ) একে আরও ব্যয়বহুল করে তুলেছে। রকস্টার নর্থের প্রধান অ্যারন গারবাট জানান, জিটিএ ৬-এ ৬ লাখ অ্যানিমেশন ব্যবহার করা হয়েছে, যা আগের গেম রেড ডেড রিডেম্পশন ২-এর তুলনায় দ্বিগুণ। জিটিএ ৫-এ ছিল মাত্র ৫৫ হাজার অ্যানিমেশন।
তবে এই বিপুল বাজেটের প্রকল্প নিয়ে কিছু বিতর্কও রয়েছে। দীর্ঘ কর্মঘণ্টা এবং কর্মীদের ওপর অতিরিক্ত কাজের চাপ বা ‘ক্রাঞ্চ’ নিয়ে সমালোচনা শোনা যাচ্ছে। এছাড়া কর্মীবান্ধব পরিবেশ এবং ইউনিয়ন গঠনের প্রচেষ্টার সঙ্গে জড়িত কর্মীদের বরখাস্ত করার অভিযোগও উঠেছে রকস্টার গেমসের বিরুদ্ধে, যা প্রতিষ্ঠানটি অস্বীকার করেছে।