যুক্তরাজ্যের লন্ডনে যৌন অসদাচরণের অভিযোগে ওয়েস্ট হ্যামের সহ-মালিক ডেভিড সুলিভানকে ক্লাবের হোম ম্যাচগুলোতে না আসার পরামর্শ দিয়েছে লন্ডন স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষ। ভক্তদের মধ্যে অস্থিরতা সৃষ্টির আশঙ্কায় স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষ এই সুপারিশ করেছে, যা ক্লাবটির জন্য বড় ধরনের উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিবিসি প্যানোরমা ও দ্য টাইমসের যৌথ অনুসন্ধানে সাতজন নারী সুলিভানের বিরুদ্ধে যৌন শোষণ ও নিপীড়নের অভিযোগ তোলেন। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে লন্ডন স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সুলিভান যদি স্টেডিয়ামে আসতে চান, তবে তা যেন আগে থেকে জানানো হয়, যাতে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়।
যদিও লন্ডন স্টেডিয়ামের এমন পরামর্শের বিপরীতে ওয়েস্ট হ্যাম কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সুলিভান ব্যক্তিগতভাবে স্টেডিয়ামে উপস্থিত থাকবেন। ক্লাবটি জানিয়েছে, তারা স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় করে সুলিভানের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে কাজ করছে।
যৌন অসদাচরণের অভিযোগের বিষয়টি সামনে আসার পর সুলিভান ক্লাবের জয়েন্ট চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তিনি নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। তবে তিনি ক্লাবের সবচেয়ে বড় শেয়ারহোল্ডার হিসেবে বহাল রয়েছেন।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে যে, সেফগার্ড বা নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে গত তিন বছর ধরে ওয়েস্ট হ্যামের নারী ও যুব দলের সাথে যোগাযোগ রাখা থেকে সুলিভানকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। ২০২৩ সালে ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের কাছে তার বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক একটি অভিযোগ উত্থাপিত হওয়ার পর এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।
আগামী শনিবার পোর্টসমাউথের বিপক্ষে কারাবাও কাপের ম্যাচ দিয়ে ওয়েস্ট হ্যাম তাদের নতুন মৌসুমের প্রথম হোম ম্যাচ খেলবে। এই ম্যাচে সুলিভানের উপস্থিতি নিয়ে স্টেডিয়াম ও ক্লাবের মধ্যে বিপরীতমুখী অবস্থান দেখা দিয়েছে।