যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে মহাকাশ গবেষণা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজ করা কোম্পানি স্পেসএক্স তাদের শেয়ারবাজারে অভিষেকের পরবর্তী প্রথম প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে দেখা যায়, কোম্পানিটির রাজস্ব প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ৭.৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। তবে বড় অংকের বিনিয়োগের কারণে কোম্পানিটি ৫৪১ মিলিয়ন ডলার লোকসানের মুখে পড়েছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্ক জানিয়েছেন, স্টারলিংক স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক, মহাকাশযান উন্নয়ন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো বৃহৎ প্রকল্পের পেছনে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে।
আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, আলোচ্য প্রান্তিকে স্পেসএক্স ১৮.৪ বিলিয়ন ডলার মূলধনী বিনিয়োগ করেছে। মাস্ক দাবি করেছেন, বিশ্বজুড়ে অন্য যেকোনো উৎক্ষেপণ সংস্থার তুলনায় স্পেসএক্স অনেক বেশি স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠাচ্ছে এবং আগামী ১০ বছরের মধ্যে বিশ্বের অধিকাংশ ইন্টারনেট সেবা তাদের নেটওয়ার্কের আওতায় আসবে। এছাড়াও আগামী বছর কক্ষপথে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ডেটা সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
শেয়ারবাজারের অবস্থা
চলতি বছরের জুনে ৭৫ বিলিয়ন ডলারের আইপিও বা প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের মাধ্যমে শেয়ারবাজারে যাত্রা শুরু করে স্পেসএক্স। শুরুতে শেয়ার প্রতি দাম ১৫০ ডলার থাকলেও জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে তা বেড়ে ২২৫.৬৪ ডলারে পৌঁছায়। তবে মঙ্গলবার শেয়ারের দাম কমে ১২৫.৩৩ ডলারে নেমে আসে। আইপিও পরবর্তী সময়ে কোম্পানিটির বাজার মূলধন থেকে প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলার হারিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, স্পেসএক্স নিয়ে বাজারে উত্তেজনা থাকলেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো খাতে বিপুল বিনিয়োগের ফলে মুনাফা না আসায় বিনিয়োগকারীরা কিছুটা দ্বিধায় আছেন। এছাড়া বৃহস্পতিবার কোম্পানির শেয়ার লকআপ মেয়াদ শেষ হতে যাওয়ায় অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বিক্রি শুরু করলে বাজারে নতুন করে চাপ সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। বাজার বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, স্পেসএক্সের শেয়ারের সঠিক মূল্য নির্ধারণের জন্য এখন একটি সমন্বয় প্রক্রিয়া চলছে।